বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৯ সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে চায় থাইল্যান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক : থাইল্যান্ডের বিভিন্ন খাতে কর্মী সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের এটি পঞ্চম দেশের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি হতে যাচ্ছে।

বুধবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে থাইল্যান্ডের একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় উঠে আসে। মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে স্বচ্ছ ও কম খরচে কর্মী নিয়োগ, কর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা, ভিসা এবং মানবপাচারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৪তম বার্ষিকী উদযাপন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরিতে থাইল্যান্ডের উদ্যোগকে বাংলাদেশ গভীরভাবে প্রশংসা করে।

নৈতিক ও দায়িত্বশীল শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নিয়োগের প্রাথমিক ব্যয় নিয়োগকর্তাকে বহন করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় ভাষায় প্রমিত কর্মসংস্থান চুক্তি, ন্যায্য মজুরি, আবাসন, চিকিৎসা বীমা ও কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকতে হবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, থাইল্যান্ডের দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন রয়েছে, আর বাংলাদেশের রয়েছে বিপুল জনশক্তি। তিনি সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার জন্য থাই প্রতিনিধি দলকে আহ্বান জানান।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, থাইল্যান্ডে ‘ব্লু কলার’ চাকরির পাশাপাশি ‘হোয়াইট কলার’ চাকরির জন্যও বাংলাদেশে উপযুক্ত কর্মী রয়েছে। সাংস্কৃতিক ও আবহাওয়াগত দিক বিবেচনায় থাইল্যান্ড বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উপযুক্ত গন্তব্য হতে পারে। তবে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, কম খরচে কর্মী পাঠানো এবং কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করতে দুই দেশকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।

থাইল্যান্ডের শ্রম বিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান নিতরুত্তি সুথিনন বলেন, থাইল্যান্ড বর্তমানে কর্মী নিয়োগের জন্য চারটি দেশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। তবে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার কারণে দেশটির নির্মাণ, হালাল ফ্যাক্টরি ও কৃষি খাতে কর্মী নেওয়া বন্ধ রয়েছে। ফলে সৃষ্ট কর্মী সংকট মোকাবিলায় পঞ্চম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী থাইল্যান্ড।

তবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান, থাইল্যান্ডকে অন্য দেশে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার এবং মানবপাচারের মতো বিষয় নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান থাই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

থাই প্রতিনিধি দলের প্রস্তাব স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, থাইল্যান্ডের উত্থাপিত উদ্বেগগুলো দ্রুত সমাধান করে অচিরেই দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন।

বৈঠকে থাইল্যান্ডের শ্রম বিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান চিনাচট সেনস্যাঙ্ক, শ্রম বিষয়ক ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ড. পিরাসিথ কুনলার্তারিপনসহ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক, যুগ্মসচিব দেবজিৎ সিংহসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং এম এম এইচ গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক মো. মেহেদী সারওয়ার উপস্থিত ছিলেন।