মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৩ রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

নারীকে টুকরো-খুনি অধরা, কিশোরীকে হাসপাতালে রেখে যায় মুখোশধারী

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর সবুজবাগে কালভার্টের ময়লাযুক্ত স্থান থেকে খণ্ডিত মস্তক ও বাহু থেকে কব্জি পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন দুই হাত উদ্ধারের ঘটনায় নিহত নারীর পরিচয় মিলেছে আরও দুই-এক দিন আগেই। তার নাম ফালানি ওরফে সুরাইয়া (১৯)।
তবে গত ৬ আগস্ট খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। উদ্ধার করা যায়নি মরদেহের বাকি অংশও।

অন্যদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিশোরীর মরদেহ রেখে পালিয়ে যাওয়া দুই ব্যক্তির পরিচয় কিংবা নিহত কিশোরীর পরিচয়-কোনোটিই এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ বলছে, সবুজবাগের ঘটনায় নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় হত্যার রহস্য উদঘাটনে তারা আশাবাদী।
তবে এখন পর্যন্ত নিহত নারীর ব্যবহৃত কোনো মোবাইল নম্বরও পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ বলেন, ওই নারীর খণ্ডিত মাথা ও দুই হাত উদ্ধার করা গেলেও বাকি দেহের অংশ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, আঙুলের ছাপের মাধ্যমে নিহত নারীর কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে ম্যানুয়ালি বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলে এবং তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে নিহত নারীর নাম-ঠিকানা শনাক্ত করা হয়।

ডিসি হারুন অর রশিদ বলেন, নিহত নারীর পরিবারের সদস্যরা তার ব্যবহৃত কোনো মোবাইল নম্বরও দিতে পারেননি। এমনকি তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়নি।

পুলিশের তথ্য মতে, ঘটনার আনুমানিক পাঁচ থেকে ছয় দিন আগে ওই নারী বাসা থেকে বেরিয়ে যান। এরপর তার সঙ্গে পরিবারের আর যোগাযোগ হয়নি। পরিবার বলছে, প্রায় সময় মেয়েটি বাইরেই থাকতো।

হত্যাকাণ্ডের ধরন সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, যেভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে তার পরিচিত কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের কোনো কুলকিনারা পাওয়া না গেলেও তদন্ত অব্যাহত আছে। জড়িতদের শনাক্ত করে ঘটনার পুরো বিষয়টি উদঘাটন করা হবে।

এদিকে গত ১২ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এক কিশোরীর মরদেহ রেখে পালিয়ে যান দুই ব্যক্তি। ঘটনার পর থেকে ওই তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানায়, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মুখে মাস্ক পরা দুই ব্যক্তি ওই কিশোরীকে সিএনজিযোগে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে মরদেহ ট্রলিতে রেখে তারা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, তাদের একজনের পরনে ছিল পায়জামা-পাঞ্জাবির মতো পোশাক। মাথায় টুপি এবং মুখে দাড়ি। অপর ব্যক্তির পরনে ছিল জিন্সের প্যান্ট ও টি-শার্ট। তবে দুজনেরই ছিল মুখে মাস্ক।

শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোসাম্মৎ মাহফুজা আক্তার ওই কিশোরীর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।

তিনি জানান, কিশোরীর চোখের পাশে এবং গলায় কালো কালো ছোপ ছোপ আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

পুলিশের ধারণা, নিহত কিশোরীর বয়স আনুমানিক ১৫ বছর হতে পারে। বয়স কম হওয়ায় তার জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। মরদেহের পোশাক ও অন্যান্য বিষয় দেখে তাকে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই কিশোরীর মৃত্যু কোনো অপরাধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই হয়েছে, তা না হলে আগে থেকেই মাস্ক পরা অবস্থায় হাসপাতালে এসে দুজন মরদেহ রেখে পালিয়ে গেল কেন!

এদিকে মেট্রোপলিটন পুলিশের তত্ত্বাবধানে চলা একটি অনলাইনে সেই কিশোরীর মরদেহের ছবি দিয়ে তার পরিচয় শনাক্তের জন্য একটি প্রতিবেদন করেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মর্গে কিশোরীর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মর্গ সূত্র জানায়, কিশোরীকে আঘাত-শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।