নিজস্ব প্রতিবেদক : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দুটি চালান থেকে ১১৬৭টি ল্যাপটপ ও ১০০টি ট্যাব-আইপ্যাড জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, ৫ হাজার ৫০০ ডলারে এলসি ঘোষণা করে মূলত ১ লাখ ৬৮ হাজার ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে।
অর্থাৎ শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব পণ্য খালাসের চেষ্টা চলছিল।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানায় এনবিআর।
রাজস্ব বোর্ড জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের অভিযানে একই আমদানিকারকের দুটি পৃথক এয়ারওয়ে বিলের চালানে বিপুল পরিমাণ ল্যাপটপ, ট্যাব, আইপ্যাড ও গাড়ির যন্ত্রাংশে মিথ্যা ঘোষণা, পরিমাণগত অসামঞ্জস্য, অস্বাভাবিক কম মূল্য ঘোষণা এবং পণ্যের প্রকৃত অবস্থা গোপনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
চালান দুটির আমদানিকারক সর্দার গ্লোবাল ট্রেড।
মালামাল খালাসে নিযুক্ত সিঅ্যান্ডএফ হচ্ছে ‘ফাহিম ফাইভ স্টার লিমিটেড’।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুই বিল অব এন্ট্রিতে মোট ঘোষণা মূল্য ছিল ৫ হাজার ৫০০ ডলার।
অথচ কায়িক পরীক্ষা ও মূল্যায়নের পর সম্মিলিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি টাকা। অর্থাৎ ঘোষিত মূল্যের তুলনায় অ্যাসেট ভ্যালু প্রায় ৩০ দশমিক ৫ গুণ।
দুই এয়ারওয়ে বিলে কায়িক পরীক্ষায় সব মিলিয়ে ১১৬৭টি ল্যাপটপ এবং ১০০টি ট্যাব বা আইপ্যাড পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ গাড়ির যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য পণ্যও পাওয়া যায়।
দুই চালানে ঘোষণার অসামঞ্জস্যের অংশ হিসেবে যথাক্রমে ৪৩টি ও ৩৯টি অতিরিক্ত ল্যাপটপ পাওয়ার বিষয়টি পরীক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এনবিআর বলছে, আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ল্যাপটপ বাহ্যিক অবস্থা দেখে ব্যবহৃত বলে প্রতীয়মান হয়েছে। পরীক্ষণ প্রতিবেদনেও এসব পণ্য বাহ্যিক আকারে ব্যবহারযোগ্য বলে উল্লেখ রয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে ব্যবহৃত হিসেবে প্রতীয়মান এসব পণ্য প্রচলিত আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী আমদানি-নিষিদ্ধ পণ্যের আওতাভুক্ত।
এছাড়া ক্যাপাসিটর, রাবার সিল, গ্যাসকেট ও রাবার হিসেবে ঘোষিত একাধিক পণ্য কায়িক পরীক্ষায় কার পার্টস হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে এইচএস কোড পরিবর্তনের বিষয়টিও পরীক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৩ আগস্ট চালান দুটির খালাস কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে সোমবার (২৩ আগস্ট) সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
মিথ্যা ঘোষণা, অস্বাভাবিক কম মূল্য ঘোষণা, ঘোষণার অতিরিক্ত পণ্য, পণ্যের প্রকৃত বর্ণনা গোপন এবং আমদানি-নিষিদ্ধ ব্যবহৃত পণ্য আমদানির অভিযোগে কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং প্রযোজ্য আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানিয়েছে এনবিআর।