আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ দেশটির আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতিকে ‘নজিরবিহীন দুর্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সরকার যত দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্ভব উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শাহ বলেন, নেপালি সেনাবাহিনী এখন পর্যন্ত রাসুয়া জেলার তিমুরে থেকে ১১৬ জনকে উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৯৫ জন নেপালের নাগরিক এবং ২১ জন ভারতের নাগরিক। এ ছাড়া একটি সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়া সাত নেপালি নাগরিককেও উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আজ সকাল সাড়ে ৬টা থেকে উদ্ধারকারী উড়োজাহাজ চলাচল করছে। এখন পর্যন্ত ১৫টির বেশি উড্ডয়ন পরিচালনা করা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য আরও কয়েকটি হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দেশ যখন এমন নজিরবিহীন দুর্যোগের মুখোমুখি, তখন সরকার যত দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্ভব উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পুরো দেশের মানুষ, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা নেপালিদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা ও সমর্থন নিয়ে আমরা সম্মিলিতভাবে এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি।’
নেপালের প্রধানমন্ত্রী জানান, উদ্ধার কার্যক্রমে গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুদের হেলিকপ্টারে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
শাহ বলেন, জেনারেটর, বহনযোগ্য মুঠোফোন নেটওয়ার্ক টাওয়ার, চিকিৎসাসামগ্রী, তাঁবু এবং লোহা ও পাথর কাটার যন্ত্রসহ জরুরি ত্রাণসামগ্রী দ্রুত দুর্গত এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ‘মানুষের যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে শিগগিরই দুর্যোগকবলিত এলাকায় অস্থায়ী মুঠোফোন নেটওয়ার্ক এবং মুঠোফোনে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’
নুওয়াকোটে একটি অস্থায়ী শিবির স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান শাহ। সেখানে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সব এলাকায় চালানো আকাশপথে পরিচালিত যন্ত্রের মাধ্যমে জরিপ কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এর মাধ্যমে আরও দক্ষ ও কার্যকরভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
শাহ বলেন, ‘আমি সবাইকে ধৈর্য ও শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য অপেক্ষা করুন এবং এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সহযোগিতা করুন। যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় রাষ্ট্রের সব সংস্থা ও ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। আশা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং দৃঢ়তার সঙ্গে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হবে। এই কঠিন সময়ে যারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের সবাইকে আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।’
নেপাল ও তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন শত শত মানুষ, যাদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন। কাঠমান্ডুতে আয়োজিত এক সম্মেলনে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, অন্তত ৩০০ ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের অধিকাংশই মানস সরোবরের তীর্থযাত্রী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সব মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ৫০০ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
বন্যার পরের ভয়াবহ পরিস্থিতির বিভিন্ন দৃশ্যে দেখা গেছে, ঘরবাড়ি, সেতু ও সড়ক পানির স্রোতে ভেসে গেছে। অনেক এলাকায় এখন শুধু কাদায় ভরা ধ্বংসস্তূপ পড়ে রয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘ভারত-নেপাল মৈত্রী বাস পরিষেবা’র দুটি বাস বন্যার পানিতে আটকা পড়েছে। প্রতিটি বাসে ২৫ থেকে ৩০ জন যাত্রী ছিলেন। তবে সবাই নিরাপদে আছেন বলে জানা গেছে।