দেশের বিভিন্ন স্থানে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও ডিলারদের সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। দিনাজপুরে অবৈধভাবে মজুত করা ৬৬৯ বস্তা সার জব্দসহ দুই অসাধু ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ভেজাল ডিএপি সার বিক্রির দায়ে জরিমানা আদায় ও ভেজাল সার জব্দ করা হয়েছে। রাজশাহীতে সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সরাসরি মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে ডিলার পয়েন্টগুলোতে সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক তৎপরতা ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ প্রশংসনীয়।
তবে এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, কৃত্রিম সংকট তৈরি ও ভেজাল সার বিক্রির চক্রটি অত্যন্ত বেপরোয়া। সরকারি তথ্যমতে, বাফার গুদামগুলোতে ইউরিয়াসহ নন-ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে আগাম বরাদ্দের সার উত্তোলনের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, মাঠপর্যায়ে সারের কোনো প্রকৃত ঘাটতি নেই। ঘাটতি যা তৈরি হচ্ছে, তা অসাধু চক্রের অবৈধ মজুতদারি, পাচার এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির কারসাজির ফল। সারের কৃত্রিম অভাব দেখিয়ে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া কিংবা ভেজাল সার বিক্রি করার এই প্রবণতা কেবল কৃষকের পকেট কাটছে না, বরং ফসলের ক্ষতি করে দেশের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনকেও ঝুঁকিতে ফেলছে।
কৃষি আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, আর কৃষক তার প্রাণ। আমনের ভরা মৌসুমে সারের সংকট বা ভেজাল সারের ব্যবহার কৃষি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে ব্যাহত করতে পারে। তাই গুটিকয়েক অসাধু ব্যবসায়ীর লোভের বলি যাতে প্রান্তিক কৃষক না হন, তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। কেবল সাময়িক অভিযান বা নামমাত্র জরিমানাতেই এ অপতৎপরতা বন্ধ হবে না; প্রয়োজন কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক দৃষ্টান্ত।
কৃষকের কাছে যেন সময়মতো, সঠিক মূল্যে এবং গুণগত মানসম্মত সার পৌঁছায়, তার জন্য প্রতিটি জেলায় সার-বীজ মনিটরিং কমিটিকে সার্বক্ষণিক সক্রিয় রাখতে হবে। ডিলার পয়েন্ট ও গুদামগুলোতে নিয়মিত সার বরাদ্দ ও বিক্রির খাতা স্বচ্ছতার সঙ্গে ডিজিটাল মনিটরিংয়ের আওতায় আনা জরুরি। কেউ সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। কৃষকের স্বার্থরক্ষা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কঠোর নজরদারি সারা বছর অব্যাহত থাকবে, এটাই কাম্য।