রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৬ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

‘কব্জিকাটা আনোয়ার’ ও ‘আই ডোন্ট কেয়ার’ গ্রুপের ৩ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদীয়া হাউজিং এলাকায় দস্যুতার প্রস্তুতিকালে ‘কব্জিকাটা আনোয়ার’ ও ‘আই ডোন্ট কেয়ার মোহাম্মদপুর’ গ্রুপের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-২। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- রাফাত চকদার, হানিফ হোসেন ওরফে জয় এবং চাঁন মিয়া।

শনিবার রাতে র‍্যাব-২ এর সিপিসি কোম্পানি কমান্ডার হাসান মুহতারিম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘কব্জিকাটা আনোয়ার’ গ্রুপের প্রধান আনোয়ারসহ অধিকাংশ সক্রিয় সদস্যকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‍্যাব-২ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খবর পাওয়া যায়, মোহাম্মদপুর থানাধীন মোহাম্মদীয়া হাউজিং এলাকায় কয়েকজন দুষ্কৃতকারী দস্যুতার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরে র‍্যাব-২ এর একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে রাফাত, জয় ও চাঁন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‍্যাব জানতে পারে, গ্রেপ্তার তিনজন ‘কব্জিকাটা আনোয়ার’ ও ‘আই ডোন্ট কেয়ার মোহাম্মদপুর’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। তারা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর এলাকায় ছিনতাই, দস্যুতা ও মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিলেন।

র‍্যাবের সিপিসি কোম্পানি কমান্ডার হাসান মুহতারিম বলেন, ‘কব্জিকাটা আনোয়ার’ গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্তদের মধ্যে ইউনুস, রাফাত, জয়, রনি, তুষার আহমেদ, পিকআপ রুবেল, বিগার রুবেল, পানি রুবেল, সাঈদ, শাহীন, মাউরা সোহেল, মাউরা রুবেল, দেলোয়ার ও জীবন বাবুসহ আরও অনেকে রয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘কব্জিকাটা আনোয়ার’ গ্রুপের পাশাপাশি মোহাম্মদপুরে ‘আই ডোন্ট কেয়ার মোহাম্মদপুর’ নামে নতুন একটি গ্রুপ সক্রিয় হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে ‘আইডিসি সোহেল’-এর নাম পাওয়া গেছে। দুই গ্রুপের অনেক সদস্যের নামেই মিল রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

গ্রেপ্তার রাফাত ও জয়কে জিজ্ঞাসাবাদে র‍্যাব আরও জানতে পারে, ঈদুল আজহার পর মোহাম্মদপুর থানাধীন চন্দ্রিমা হাউজিংয়ের ১১ নম্বর এলাকায় মো. মকবুল (২০) নামে এক যুবকের আঙুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ওই যুবক ময়মনসিংহ এলাকায় চলে গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তার পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

র‍্যাব জানায়, পিসিপিআর যাচাই করে রাফাত চকদারের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় ছিনতাই ও দস্যুতার প্রস্তুতির অভিযোগে মামলা পাওয়া গেছে। এছাড়া আদাবর থানায় দস্যুতার একটি মামলাতেও তিনি অভিযুক্ত।

হানিফ হোসেন ওরফে জয়ের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মারামারি, হত্যাচেষ্টা, ছিনতাই, দস্যুতার প্রস্তুতি ও মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। অন্যদিকে চাঁন মিয়ার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানায় দ্রুত বিচার আইন, ছিনতাই, মাদক ও দস্যুতার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে এবং উদ্ধার করা আলামতের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব-২।