নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষক রনজিনা পারভীনের মৃত্যুর ঘটনায় দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২। তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত ইয়ামাহা আর-১৫ মোটরসাইকেল উদ্ধারের দাবি করা হলেও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মোটরসাইকেলের রঙের সঙ্গে উদ্ধার করা বাইকের রঙের মিল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গ্রেপ্তার মোশাররফ হোসেন পনি ওরফে পনি গাজী দাবি করেছেন, তিনি এ ঘটনায় জড়িত নন। একই সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের রং সাদাকালো, আর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মোটরসাইকেলটি নীল রঙের বলেও দাবি করেন তিনি।
রোববার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় র্যাব-২ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নটির অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন-মোশাররফ হোসেন পনি ওরফে পনি গাজী এবং তার সহযোগী সেড্রিক।
তাদের কাছ থেকে একটি ইয়ামাহা আর-১৫ মোটরসাইকেল উদ্ধারের কথা জানিয়েছে র্যাব। মোটরসাইকেলটির মালিক রাকিবকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
র্যাবের দাবি, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর পূর্ব তেজতুরী বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার দিন মোটরসাইকেলটি পনি গাজীর কাছে ছিল। নিহত রনজিনা পারভীনের স্বামী আবদুল মতিনও ঘটনাস্থলে এ ধরনের একটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে দেখেছেন বলে র্যাবকে জানিয়েছেন বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
র্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মোটরসাইকেলচালকের দৈহিক গঠনের সঙ্গে পনি গাজীর দৈহিক গঠনের মিল রয়েছে। স্থানীয় ১৫ জনকে ফুটেজ দেখিয়েও পনির জড়িত থাকার বিষয়ে তারা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, রাত আড়াইটা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত আসামিদের মোবাইল নম্বরের অবস্থান ওই এলাকার আশপাশে পাওয়া গেছে।
র্যাব জানায়, পনি গাজীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক, চুরি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ডাকাতির প্রস্তুতিসহ মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। এর আগে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে বের হন।
বাইকের রং নিয়ে প্রশ্ন:
ঘটনার পর প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে নীল রঙের একটি মোটরসাইকেলে দুই ব্যক্তিকে দেখা যায়। তবে র্যাব যে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে, সেটি সাদাকালো রঙের।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সামনে পনি গাজী চিৎকার করে দাবি করেন, তিনি এ ঘটনায় জড়িত নন। তাকে জোর করে ধরে আনা হয়েছে। তার মোটরসাইকেলের রং সাদাকালো, অথচ সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মোটরসাইকেলটি নীল রঙের বলেও দাবি করেন তিনি।
বাইকের রঙের পার্থক্য নিয়ে প্রশ্নের জবাবে র্যাব-২-এর অধিনায়ক বলেন, মামলায় আসামি অজ্ঞাত থাকায় দুজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। আদালতের অনুমতি নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
যা বলছেন শিক্ষিকার স্বামী:
বাইকের রং নিয়ে নিহত শিক্ষিকার স্বামী আবদুল মতিন বলেন, ঘটনার সময় তিনি রোগীকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এ কারণে মোটরসাইকেলটির রং বা ধরন তিনি খেয়াল করতে পারেননি।
তিনি বলেন, প্রশাসন চেষ্টা করলে কোনো কাজই অসম্ভব নয়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।