বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২০ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

‘কদম’ ডকইয়ার্ডে, চিলমারী-‌রৌমারী নৌপথ ফেরিশূন্য

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : যানবাহন পারাপারে তিনটি ফেরি নিয়োজিত থাকলেও কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী নৌপথ এখন ফেরিশূন্য। একে একে দুটি ফেরি সরিয়ে নেওয়ার পর এতদিন এ নৌপথে একমাত্র ভরসা ছিল বাকি ফেরি ‘কদম’।
এবার মেরামতের জন্য সেই ফেরিটিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চিলমারী নদীবন্দর ঘাট থেকে নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডের উদ্দেশে সরিয়ে নেওয়া হয় ‘কদম’। ফলে নৌপথটিতে ফেরি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে যানবাহন পারাপার নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা।

চিলমারী বন্দরের পোর্ট কর্মকর্তা মাহবুব আলম তায়েফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ১৪ জুলাই মেরামতের জন্য ‘কুঞ্জলতা’ ফেরিটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

জানা গে‌ছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) উদ্যোগে ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ‘কুঞ্জলতা’ দিয়ে চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু হয়। একই বছরের ৪ অক্টোবর যুক্ত হয় ফেরি ‘বেগম সুফিয়া কামাল’।
তবে ধারণক্ষমতা কম হওয়ায় ২৫ দিনের মাথায় গত বছরের ২৯ অক্টোবর সরিয়ে নেওয়া হয় ফেরিটি।

এরপর ২০২৩ সালের নভেম্বরে ‘কদম’ ফেরিটি যুক্ত হয়। এতদিন ‘কুঞ্জলতা’ ও ‘কদম’ দিয়ে পণ্যবাহীসহ বিভিন্ন যানবাহন পারাপার চলছিল। ১৪ জুলাই ‘কুঞ্জলতা’ সরিয়ে নেওয়ার পর ৫১ দিন ধরে একমাত্র ফেরি ‘কদম’ দিয়ে পারাপার চলছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘তিনটা ফেরি দিয়ে চালু হলেও এখন একটিও নেই।
একটি ফেরি মেরামতে পাঠানো হলে বিকল্প ফেরির ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। এতে চিলমারী-রৌমারীর মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে।’

সাইদুর রহমান নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নাব্যতা সংকটে ফেরি চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। এর মধ্যে একের পর এক ফেরি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত বিকল্প ফেরি না দিলে পণ্য পরিবহন ও মানুষের যাতায়াতে সংকট দেখা দেবে।’

চিলমারী ঘাটে আটকে পড়া ট্রাকচালক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘ফেরি না থাকলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা লাগে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ে।’

বিআইডাব্লিউটিসির চিলমারী নদীবন্দরের সহকারী প্রকৌশলী (বাণিজ্য) আতিক সোহেল আকাশ বলেন, ‘কদম ফেরিটি মেরামতের জন্য নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। মেরামত শেষে ফেরিটি আবার চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ফিরিয়ে আনা হবে।’