মুক্তবাণী রিপোর্ট : ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে গাইবান্ধায় সব নদ-নদীর পানি বেড়েই চলেছে। ফলে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন।
শেষ সম্বল বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন নদী তীরবর্তী জনতা।
এর মধ্যে জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তার ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে প্রায় একশত পরিবার।
যদিও সরকারি হিসেবে ঘরবাড়ি হারানো পরিবারের সংখ্যা ৮৩টি। ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলাসহ সম্ভাব্য জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাউবোর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি স্টেশনে ২০ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি নিউব্রিজ স্টেশনে ১৪ সেন্টিমিটার, করতোয়া নদীর পানি চকরহিমাপুর স্টেশনে ১৬ সেন্টিমিটার ও তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া স্টেশনে ৬ সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে, এখনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা স্পর্শ করেনি।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩৫.০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে জেলায় বন্যার আশঙ্কা করছে পাউবো।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নদ-নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে গাইবান্ধা সদরসহ সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাশিয়া ইউনিয়নের লালচামার এলাকায় তিস্তার ভাঙন প্রকট আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়দের দাবি, গেল বুধবার থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত টানা কয়েক দিনের নদী ভাঙনে প্রায় একশ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন। যদিও সরকারি তথ্যমতে নদীগর্ভে শেষ সম্বল বসতভিটা বিলীন হওয়া পরিবারের সংখ্যা ৮৩টি। এছাড়া তিস্তার ভাঙনের মুখে হুমকিতে পড়েছে আরও দুই শতাধিক পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে এ এলাকায় অন্তত চার দফায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে ভাঙনের তীব্রতা।
গত বুধবার রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় শতাধিক পরিবার তিস্তার ভাঙনের শিকার হয়েছে। ভাঙনে বসতঘরের পাশাপাশি গাছপালা, হাঁস-মুরগির খামার ও অন্যান্য মালামালও নদীতে চলে গেছে। অনেকে ঘর সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও পাননি। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন নদীর তীরবর্তী আরও দুই শতাধিক পরিবার।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট ভাঙনের মুখে পড়ে শিশুদের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফলে দ্রুত বিপুল সংখ্যক জনবল নিয়োগ করে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সরিয়ে নেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিকভাবে শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী সরকারি নিয়মে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরগঞ্জে ভাঙন শুরু হওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে প্রায় দুই হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে।
তিনি জানান, নদ-নদীতে পানি বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই গাইবান্ধা সদরসহ সব উপজেলার নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। সবদিকে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলাসহ সম্ভাব্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন করে পানি বাড়ায় ছোট বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।