শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২২ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

মালয়েশিয়ার সারাওয়াকে দাবানলের ধোঁয়ায় ভয়াবহ বায়ুদূষণ, জরুরি অবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মালয়েশিয়ার সারাওয়াক রাজ্যের সেরিয়ান জেলায় দাবানলের ধোঁয়ায় বায়ুদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় বন ও পিটভূমিতে ছড়িয়ে পড়া আগুনের ধোঁয়া বাতাসকে বিপজ্জনক করে তুলেছে।

শুক্রবার সেরিয়ানে বায়ুমান সূচক (এপিআই) ৫০০ ছাড়িয়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এপিআই ৩০০-এর বেশি হলে তা বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচিত হয়।

তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারাওয়াকের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণার অনুমোদন দিয়েছেন মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সরকার এবং জনসাধারণের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

বোর্নিও দ্বীপের মালয়েশীয় অংশে অবস্থিত সারাওয়াক দীর্ঘদিন ধরেই ইন্দোনেশিয়ার কালিমান্তান অঞ্চলের বন ও পিটভূমির দাবানল থেকে আসা ধোঁয়ার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাতাসে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় সেরিয়ানসহ আশপাশের এলাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় মালয়েশিয়া সারাওয়াকে তিন দিনের কৃত্রিম বৃষ্টিবর্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এ কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য হলো বাতাসে থাকা ধোঁয়ার ঘনত্ব কমানো এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা।

এদিকে ইন্দোনেশিয়াও দাবানল নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বৃষ্টিবর্ষণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র বার্তন পাঞ্জাইতান জানান, গত ২৬ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে বৃষ্টির সুবিধা কাজে লাগিয়ে মাটি ও পিটভূমির আর্দ্রতা বাড়ানো, চলমান আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি জানান, আবহাওয়া পরিবর্তন বা কৃত্রিম বৃষ্টিবর্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইন্দোনেশিয়া বিভিন্ন অগ্রাধিকার এলাকায় মোট ৩৪টি উড়োজাহাজ মোতায়েন করেছে।

কৃত্রিম বৃষ্টিবর্ষণ পদ্ধতিতে উপযুক্ত মেঘের মধ্যে নির্দিষ্ট কণা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে মেঘে ঘনীভবন বাড়িয়ে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি করা হয়। দাবানল নিয়ন্ত্রণ এবং ধোঁয়াজনিত বায়ুদূষণ কমাতে বর্তমানে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া উভয় দেশই এ পদ্ধতি ব্যবহার করছে।