নিজস্ব প্রতিবেদক : কারা ব্যবস্থাপনাকে পুরোপুরি ডিজিটালাইজড করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডিজিটাল হাজিরা ও বন্দিদের সপ্তাহে ১০ মিনিট মোবাইল ফোনে ফোনালাপের পাশাপাশি চালু করা হয়েছে ভিডিও কলিং সুবিধা ও ক্যাশলেস ক্যান্টিন সেবা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নভোথিয়েটার প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে স্টলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কারা অধিদপ্তরের জেলার মো. আবুল হোসেন এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের বাস্তবায়নে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে কারা অধিদপ্তরের ডিজিটালাইজেশন প্রযুক্তি ও আধুনিক সেবা দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে।
বাংলাদেশ জেলের কারা অধিদপ্তরের বিশেষ স্টলটিতে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে।
জেলার মো. আবুল হোসেন জানান, কারা অধিদপ্তরের ভিডিও কলিং সিস্টেমটি বর্তমানে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে মুন্সিগঞ্জ কারাগারে চালু রয়েছে।
বন্দির অনুমোদিত নিকটাত্মীয় যেমন স্বামী, স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা ও ভাই-বোনের নম্বর সিস্টেমে যুক্ত থাকবে এবং কেবল সেসব নম্বরেই সরাসরি কথা বলা যাবে।
এছাড়া কারাগারে বন্দিদের কেনাকাটায় স্বচ্ছতা আনতে চালু করা হয়েছে ‘ক্যাশলেস প্রিজন্স’ সেবা।
এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বজনরা ঘরে বসেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ও এমএফএস অ্যাপ দিয়ে বন্দির ‘প্রিজনার্স ক্যাশ’ (পিসি) অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে পারবেন। এছাড়া বন্দিদের দেওয়া হবে একটি বিশেষ এফআইআর আইডি সংবলিত রিস্টব্যান্ড। এতে কারাগারের বন্দিদের সহজে ট্র্যাকিং করা যাবে।
এর ফলে কোনো নগদ লেনদেন ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্যাশলেস ক্যান্টিন থেকে কেনাকাটা করা যাবে এবং বন্দি নিজের অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স দেখতে পারবেন। মুক্তি পাওয়ার সময় রিলিজ স্লিপের মাধ্যমে অবশিষ্ট টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগও রয়েছে।
‘কারাপে’ (KaraPay) অ্যাপের বিষয়ে কারা অধিদপ্তরের জেলার জানান, গুগল প্লে-স্টোরে থাকা এই অ্যাপের মাধ্যমে স্বজনরা ঘরে বসেই বন্দির অ্যাকাউন্টে টাকা জমা এবং ভিডিও কলের তথ্য এন্ট্রি করতে পারবেন, যার ফলে তথ্যের জন্য বারবার কারাগারে যেতে হবে না।
শনিবার নভোথিয়েটার প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার। এদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর উদ্বোধন করেন। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলাটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এতে সার্বিক সহযোগিতা করছে স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশন্স লিমিটেড।
উদ্বোধনী দিনেই মেলা প্রাঙ্গণে উদ্ভাবক, নীতি নির্ধারক, শিল্প উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত সমাগম ঘটে। বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে তৈরি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রকল্পগুলো নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল দেখা যায়। দেশীয় তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি ও গবেষণাকে বাণিজ্যিক রূপ দিয়ে বাজারের সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে এ মেলায় উদ্ভাবক ও স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠাতা অংশ নিয়েছেন।