বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১১ রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন কমিটি নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদে ১০২ নাগরিকের যৌথ বিবৃতি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত তিনটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজের ১০২ জন প্রতিনিধি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা নিরসন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সব জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যেই সরকার ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি’, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নির্বাহী কমিটি’ ও ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পরামর্শক কমিটি’ গঠন করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১০ সেপ্টেম্বর জারি করা তিনটি প্রজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য হিসেবে পার্বত্য অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, গুম-খুন প্রতিরোধ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটিগুলোকে স্থানীয় উন্নয়ন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি, নিরাপত্তা, প্রচলিত আইন পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বিষয়ে সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়াকে তারা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিনিধিত্ব সংকুচিত করার কোনো উদ্দেশ্য সরকারের নেই। বরং পাহাড়ে বসবাসকারী বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, নাগরিক সুবিধা, সামাজিক সম্প্রীতি ও সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন।
বিবৃতিদাতারা আরও বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সুফল যেন পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষ সমানভাবে ভোগ করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসনিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাদের মতে, নিরাপত্তার বিষয়টিকে শুধু আইনশৃঙ্খলার দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে পাহাড়ে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের নাগরিক নিরাপত্তার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সব জনগোষ্ঠীর মতামত ও অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রতিনিধি, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ, সিনিয়র নাগরিকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, উচ্চপর্যায়ের কমিটিগুলোর কার্যক্রমকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করে স্বচ্ছতা, সামাজিক সম্প্রীতি ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে প্রক্রিয়াটিকে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
এতে আরও বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও উন্নয়নের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপ এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি করা জরুরি। কমিটিগুলোর সুপারিশ প্রণয়নের সময় স্থানীয় জনগণের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন দারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়ার উপাচার্য ড. আসিফ মিজান; বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ; সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. গোলাম রহমান ভূঁইয়া; অধ্যাপক ড. মোঃ আবু তৈয়ব চৌধুরী; অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনুছ; লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার ফরিদুল আকবর; ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসিনুর রহমান; অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার; অধ্যাপক হারুন উর রশিদ; এস এম জহিরুল ইসলাম; ক্যাপ্টেন রেদওয়ান সিকদার; ব্যারিস্টার ইলিয়াছুর রহমান; অধ্যক্ষ নুরুল আলম; অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান; ড. মোহাম্মদ মুহিব উল্লাহ; মেজর মাসুদুর রহমান; সাংবাদিক ও কলামিস্ট কামাল পারভেজ; নাজিমউদ্দিন চৌধুরী এ্যালেন; হাবীব আজম; হাবিবুর রহমান; দিদারুল আলম; মোজাম্মেল হক লিটন; মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন; এডভোকেট কামাল উদ্দিন সুজন; ডা. মোহাম্মদ ইউসুফ আলী; এডভোকেট রাইসুল কবিরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ১০২ জন।
বিবৃতির শেষাংশে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সব জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, অধিকার, উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানানো হয়।