বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১২ রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় আর বাজে না লোহার ঘণ্টা

মুক্তবাণী রিপোর্ট : সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় রয়েছে বিশাল একটি লোহার ঘণ্টা। ডিজিটাল প্রযুক্তি বা সাইরেন আবিষ্কারের আগে, কারখানায় লোহার ঘণ্টার ব্যবহার ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য।
সেই আমলে বিশাল কারখানার কর্মব্যস্ত পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ও হাজার হাজার শ্রমিকের সময় ব্যবস্থাপনার একমাত্র প্রধান মাধ্যম ছিল লোহার ঘণ্টা।

কারখানায় কাজের দিন শুরু হওয়ার সংকেত দিতে এবং নির্দিষ্ট শিফট শেষে ছুটি ঘোষণার জন্য লোহা বা ব্রোঞ্জের তৈরি বড় ঘণ্টা বাজানো হতো।
১৮৭০ সালে সৈয়দপুরে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা।

কারখানার প্রধান গেটের পূর্বদিকে ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত ঘণ্টাটির ঐতিহাসিক ব্যবহার ও গুরুত্ব রয়েছে।

সেই যুগে আজকের মতো বিদ্যুৎ, ডিজিটাল ঘড়ি, সাইরেন বা লাউড স্পিকার ছিল না। তাই কারখানায় কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিককে সময় জানান দিত এ ঘণ্টা।
কারখানায় প্রবেশ এবং ছুটি এ ঘণ্টা বাজার ওপর নির্ভর করতো। প্রতি ঘণ্টায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি লোহার দণ্ড দিয়ে জোরে আঘাত করে জানান দিতেন এখন কয়টা বাজে। এ ঘণ্টার শব্দ প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত শোনা যেত।

শ্রমিকদের দুপুরের খাবার বা নির্দিষ্ট বিরতির (যেমন ৪৫ মিনিট কাজ ও ১৫ মিনিট বিশ্রাম) সময় জানাতে ঘণ্টা ব্যবহার করা হতো। ঘণ্টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই সব যন্ত্রপাতি বন্ধ করে শ্রমিকরা বিরতিতে যেতেন। কারখানায় কাজের দিন শুরু হওয়ার সংকেত দিতে এবং নির্দিষ্ট শিফট শেষে ছুটি ঘোষণার জন্য লোহা বা ব্রোঞ্জের তৈরি বড় ঘণ্টা বাজানো হতো।

এ ঘণ্টা শুনেই আশেপাশের মানুষজন নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে যেতেন। কারখানার ভেতরে কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা, আগুন লাগলে বা জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে অনবরত ঘণ্টা বাজিয়ে সব শ্রমিকদের সতর্ক করা হতো। এমন অনবরত ঘণ্টার শব্দে হাজার হাজার শ্রমিক নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিতেন।
ব্রিটিশ আমলের সেই ঘণ্টা রেলওয়ের গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হিসাবে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় সংরক্ষিত রয়েছে।

পরে বাষ্পীয় হুইসেল, বৈদ্যুতিক সাইরেন এবং আধুনিক পিএ সিস্টেম আসার পর এ লোহার ঘণ্টার ঐতিহ্যবাহী ব্যবহার ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ জানান, লোহার ঘণ্টার ব্যবহার হয় না, তবে মাঝে-মধ্যে ব্যবহার করা হয় বিশেষ কাজে। মূলত দর্শনার্থীদের দেখার জন্য এটি রাখা হয়েছে। এখন কারখানার শ্রমিকদের জন্য বাষ্পীয় হুইসেল বাজানো হয়।

নোট: একটি পিএ সিস্টেম বা পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম (Public Address System) হলো এমন একটি ইলেকট্রনিক সাউন্ড অ্যামপ্লিফিকেশন এবং ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম, যা মাইক্রোফোন, অ্যাম্প্লিফায়ার ও লাউডস্পিকারের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত বড় জমায়েত বা শ্রোতাদের কাছে স্পষ্টভাবে শব্দ বা কথা পৌঁছে দেয়।