☰

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৪ রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

তাজিকিস্তানে এপিএর স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল

মুক্তবাণী রিপোর্ট : তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান পার্লামেন্টারি অ্যাসেম্বলির (এপিএ) সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদল। ২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর এ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে ছিলেন সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম, ডা. মো. মাহবুবুর রহমান, তাজিকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়ের উপসচিব ড. মো. ওহিদুজ্জামান।

সভা আয়োজন এবং সংসদীয় প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য তাজিকিস্তান সরকার ও সংসদীয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল।

সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের বিষয় তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও কার্যক্রম সম্পর্কে তারা সভায় অবহিত করেন।

প্রতিনিধিদল জানায়, নির্বাচনী ইশতেহারের ভিত্তিতে সরকার সংসদীয় গণতন্ত্র ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা, সমৃদ্ধ ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে সব সম্প্রদায়ের পূর্ণ ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া রাজনৈতিক ও জনজীবন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর সরকারের গুরুত্বারোপের বিষয়টি তুলে ধরেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বলেন, টেকসই অগ্রগতির জন্য জাতীয় পর্যায়ে সুচিন্তিত নীতির পাশাপাশি এশিয়াজুড়ে শক্তিশালী সংসদীয় সহযোগিতা প্রয়োজন। অভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলোকে কার্যকর আইনি পদক্ষেপে রূপান্তর, জবাবদিহিতা জোরদার এবং উন্নয়নকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনকেন্দ্রিক করতে সংসদ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তারা।

এ প্রেক্ষাপটে সম্মিলিত বিবেচনার জন্য সভায় পাঁচটি সুপারিশ তুলে ধরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল। এর মধ্যে রয়েছে—অভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইন, নীতিমালা ও উত্তম কর্মপন্থা বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদার করা; শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও মানব উন্নয়নসংক্রান্ত নীতিমালার বাস্তবায়নে বাজেট ও সংসদীয় তদারকি কার্যক্রম কার্যকরভাবে ব্যবহার করা; নারী, তরুণ, শিশু, প্রবীণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বার্থ নীতি ও আইনে প্রতিফলিত করা।

সুপারিশের অন্য দুটি বিষয়ের মধ্যে রয়েছে-দুর্নীতি, মানব পাচার, অবৈধ মাদকসহ আন্তঃরাষ্ট্রীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংলাপ ও সমন্বিত আইন প্রণয়নের মাধ্যমে আন্তঃসংসদীয় সহযোগিতা বাড়ানো এবং এশিয়াজুড়ে সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া, আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও সহনশীলতা বাড়াতে সংসদীয় কূটনীতির ব্যবহার জোরদার করা।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল সংসদীয় সংলাপ ও কূটনীতি আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সংযুক্ত, সহনশীল ও শান্তিপূর্ণ এশিয়া গড়ে তুলতে এপিএর সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানায়।