নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সক্রিয় সদস্য ও কদমতলী থানার বাসিন্দা ওয়াসিম আহমেদ মুকছানকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে নিজ বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত ৪ জানুয়ারি ভোর আনুমানিক চারটার দিকে।
প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তার স্ত্রী জানান, তিন থেকে চারজন ব্যক্তি কোনো পরিচয়পত্র প্রদর্শন না করেই জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে। তাদের সঙ্গীরা বাইরে অবস্থান করছিল। কালো রঙের একটি মাইক্রোবাসে তারা এসেছিল। কেউ ইউনিফর্মে ছিলেন না, সবাই সাধারণ পোশাকে ছিলেন। ওয়াসিমকে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রশ্ন করলে তারা ওয়াসিমের স্ত্রীকে জানান, “কাল সকালে শ্যামপুর থানা থেকে ওয়াসিমকে নিয়ে যেতে।”
পরবর্তী সকাল থেকে শ্যামপুর, কদমতলী ও কেরানীগঞ্জ থানায় খোঁজখবর নেওয়া হলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি ডিবি কার্যালয়েও তার সন্ধান মেলেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও আশানুরূপ সহযোগিতা না পাওয়ায় ওয়াসিম আহমেদ মুকছানের বর্তমান অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এনসিপি।
ওয়াসিম আহমেদ মুকছান শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী নন, তিনি এনসিপির একজন সচেতন সংগঠক ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয় কর্মী। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন।
তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলনের সময় থেকে। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তিনি শুরু থেকেই মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন। পরবর্তী সময়ে এনসিপির কদমতলী থানার সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত থেকে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে একজন দৃশ্যমান ও দায়িত্বশীল কর্মীতে পরিণত হন।
তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা, কর্মসূচি ও সংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তৃণমূল পর্যায়ে দলের সংগঠন শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। নাগরিক অধিকার, ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। তরুণদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন করতে এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে যুক্ত করতে নিয়মিত কাজ করেছেন। এই সক্রিয় ভূমিকার কারণে তার হঠাৎ নিখোঁজ হওয়া বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এনসিপি মনে করে, একজন রাজনৈতিক কর্মীর এভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া শুধু তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং এটি নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। এ ধরনের কার্যক্রম ফ্যাসিবাদী কায়দায় গুম করার প্রতিফলন। এর বিরোধিতা এনসিপি সবসময় করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।
সংগঠনটি দাবি করেছে, অনতিবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ওয়াসিম আহমেদ মুকছানের অবিলম্বে সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।