নিজস্ব প্রতিবেদক : অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাজধানীর বনশ্রীতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার নিলিকে গলা কেটে হত্যা করেছে হোটেল কর্মচারী মিলন মল্লিক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত এ তথ্য স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র্যাব)।
সোমবার বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি তুলে ধরেন র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।
এর আগে রবিবার সকালে র্যাবের একাধিক ব্যাটালিয়নের যৌথ অভিযানে বাগেরহাট থেকে মিলনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বাগেরহাটের মান্ডা বাশখালী এলাকার মৃত সেকেন্দার মল্লিকের ছেলে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও অভিযুক্তকে গ্রেফতারে র্যাব তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়— ঘটনার দিন দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে মিলন ভিকটিমের বাসায় প্রবেশ করেন এবং ১টা ৪১ মিনিটে নিহতের বড় বোন শোভা আক্তারের সঙ্গে বাসা থেকে বের হন। পরে বোন জিমে চলে গেলে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে মিলন পুনরায় একা বাসায় প্রবেশ করেন এবং প্রায় ২০ মিনিট অবস্থানের পর ২টা ৪৫ মিনিটে বের হয়ে যান।
প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় র্যাব জানতে পারে, ঘটনার পর মিলন বাগেরহাটে পালিয়ে যান। এরপর র্যাব-৩ ও র্যাব-৬-এর যৌথ দল বাগেরহাট সদর থানার সিংগা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার আগের রাতেও খাবার দিতে গিয়ে একই প্রস্তাব দিলে নিলি তাকে বকাঝকা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
র্যাব জানায়, ঘটনার দিন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নাইলনের দড়ি নিয়ে মিলন ভিকটিমের বাসায় যান। একপর্যায়ে অনৈতিক প্রস্তাবে আবারও রাজি না হওয়ায় তিনি দড়ি দিয়ে নিলির গলা চেপে ধরেন। ভিকটিম চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হওয়ার আশঙ্কায় রান্নাঘরে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করেন। হত্যার পর বাসার আসবাবপত্র তল্লাশি করে কিছু নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যান।
অভিযান চলাকালে মিলনের কাছ থেকে ঘটনার সময় ব্যবহৃত কালো প্যান্ট ও নীল গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও নাইলনের দড়ি উদ্ধার করে পুলিশ। র্যাব জানায়, গ্রেফতার মিলন একজন মাদকসেবী এবং এর আগেও মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়েছিল।
র্যাব-৩ এর অধিনায়ক আরও জানান, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা সহযোগী রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।