শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১০ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

‘মব’ শব্দে সতর্কতা চান তাজুল, রাজনীতিকদের চোখে ‘থ্রেট’

নিজস্ব প্রতিবেদক : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘মব’ শব্দটি ব্যবহার করার পেছনে বিপ্লবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মানসিকতা কাজ করে। তাই শব্দটির প্রয়োগে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন’ শীর্ষক নীতি সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তাজুল ইসলামের বক্তব্যের পর একাধিক বক্তা কড়া সমালোচনা করেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ তাঁর বক্তব্যকে ‘থ্রেট’ হিসেবে দেখছেন।

সংলাপে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পাশাপাশি ‘মব’ প্রসঙ্গ আলোচনায় উঠে আসে।

সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করীম আব্বাসি সূচনা বক্তব্যে বলেন, এখন বিচার বিভাগের নয়, বরং ‘মবোক্রেসি’র শাসন দেখা যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া ট্রায়াল হচ্ছে। তথাকথিত তৌহিদি জনতা আইন নিজের হাতে নিতে পারে এবং দোষীদের শাস্তি দিতে গড়িমসি চলতে থাকলে প্রতীকী ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, বিপ্লবের আগে–পরে যেকোনো সময় অন্যায়কে অ্যালাউ করলে তা ফিরে আসবেই। তিনি মন্তব্য করেন, ‘মবকে অ্যালাউ করা হয়েছিল, এখন মব সরকারকে খেয়ে ফেলছে। নির্বাচন কমিশনকে খেয়ে ফেলছে। দেশকেও খেয়ে ফেলতে পারে।’

তাজুল ইসলাম বলেন, গণভবনের পতনের আন্দোলনের সঙ্গে কোনো ছিনতাইকারী বা ধর্মীয় সংখ্যালঘু হত্যার ঘটনা একসঙ্গে বিচার করা যাবে না। ‘মব’ শব্দ প্রয়োগের আগে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিপ্লবের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ‘মব’ শব্দ বারবার ব্যবহার করা হলে তা সংযত হওয়া উচিত।

সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘আইনের শাসন চান, আবার মবকে উসকান—এটা বাংলাদেশে চলতে পারে না।’ বিএনপি নেত্রী নিলুফার চৌধুরীও তাজুল ইসলামের বক্তব্যের সমালোচনা করেন।

কমিউনিস্ট পার্টি ও সমাজতান্ত্রিক দলের নেতারা তাঁর বক্তব্যকে ‘থ্রেট’ হিসেবে আখ্যা দেন।

সংলাপের সঞ্চালক সিজিএস প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান বলেন, সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি একসময় বলেছিলেন, ‘মব বলে কিছু নেই, এরা হচ্ছে প্রেশার গ্রুপ।’ কয়েক দিন পর দেখা গেল, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার নিয়ে বিতর্ক। এরপর তাঁরা আর মব নিয়ে কথা বলেননি। এখন আবার মবের পক্ষে কথা বলা শুরু হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, অচিরেই হয়তো নতুন কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।