শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১০ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

তারা বাংলাদেশের ‘স্বাধীনতার বিরোধিতা’ করেছিল: ফখরুল

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে যারা আজ ভোট চাইতে আসছে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল বলে ভোটারদের মনে করিয়ে দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে গণসংযোগে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, স্বাধীনতার সময় মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল এবং তাদের ঘরবাড়িতে লুটপাট চালানো হয়েছিল।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি মহাসচিব ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা প্রতীক)।

গণসংযোগে মির্জা ফখরুল বলেন, “আজ যারা দাঁড়িপাল্লা নিয়ে আপনাদের সামনে ভোট চাইতে এসেছে, তারা সেদিন স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। তখন আপনাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে হয়েছিল, লুটতরাজ হয়েছিল। ঠিক কি না বলেন?”

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাইবোনেরা যে ভয় পান, সেই ভয় আর থাকবে না। এই দেশটা আপনার, এই দেশের মাটিটা আপনার। একজন মুসলমানের যে অধিকার আছে, আপনাদেরও একই অধিকার আছে। এখানে সবাই সমান, একই দেশের মানুষ।”

তিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হওয়া, পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করা এবং দেশ স্বাধীন করার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, “আমরা আমাদের দেশ ছেড়ে কোথাও যাইনি, যাবও না। আমরা আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”

হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে বিএনপি আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “হিন্দুদের মধ্যে একটা ভয় কাজ করে। অনেকে বলেন, আমরা ধানের শীষে ভোট দিলাম, কিন্তু পরে যদি দাঁড়িপাল্লার লোকজন আমাদের ক্ষতি করে? আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই—ধানের শীষের লোকেরা অতীতেও আপনাদের পাশে ছিল, এখনো থাকবে ইনশাআল্লাহ।”

ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “ভোট দিয়ে যারা স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলে, যারা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডসহ আইনশৃঙ্খলার কথা বলে, তাদের হাতকে শক্তিশালী করুন।”

এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং দলের সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা বক্তব্য দেন।