নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৪৮৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩৯০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৯২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় মোট পাঁচটি প্রকল্পের মধ্যে তিনটি সংশোধিত এবং দুটি মেয়াদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রকল্প ছিল।
সভায় পরিকল্পনা ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প রয়েছে— সাব-জাতীয় সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২ (GSIDP-2) (১ম সংশোধন) এবং চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রকল্প-৪ (সিডিএসপি-৪) (৩য় সংশোধন)। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও চরাঞ্চলের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন (২য় সংশোধিত)’ শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল তৈরি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন (কম্পোনেন্ট-২): দেশের ৮টি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক ইমেজিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ (১ম সংশোধিত)’ এবং ‘গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
সভা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অনুমোদিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হবে এবং সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।