এম আবদুল্লাহ
জাতীয় সংসদের স্পীকার মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমদ শুক্রবার সংসদ অধিবেশন পরিচালনাকালে বিরোধী দলীয় নেতার উদ্দেশে বলেছেন, ‘গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনব্যবস্থা’। স্পীকারের এ মন্তব্যে ভীষণ দুঃখ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, স্পীকারের চেয়ার থেকে এমন বক্তব্য বা মন্তব্য আশা করেননি। কোন প্রেক্ষাপটে স্পীকার এমন মন্তব্য করলেন আর বিরোধী দলীয় নেতাই বা কেন এতটা দুঃখ পেলেন সে প্রসঙ্গে পরে আসছি। তার আগে গণতন্ত্রের সার্বজনীন সংজ্ঞায় দৃষ্টি দেওয়া যাক। যদিও গণতন্ত্রের সঠিক বা যুৎসই সংজ্ঞা নিয়ে বহুমত রয়েছে। অবিশ্বাস্য হলেও ইংরেজিতে গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত ও বর্ণনা করতে ২ হাজার ২৩৪টির মতো বিশেষণ ব্যবহার হয়েছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানে গণতন্ত্র মানে এমন এক শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণই ক্ষমতার মালিক। সাধারণভাবে বললে, গণতন্ত্রে জনগণ ভোট দিয়ে তাদের নেতা বেছে নেয়। দার্শনিক কার্ল পপারের ভাষায়- গণতন্ত্র মানে জনগণের শাসন, আর জনগণের শাসন করার অধিকার আছে। ডেমোক্রেসী বা গণতন্ত্রের সবচেয়ে পপুলার সংজ্ঞা হচ্ছে ‘জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য, জনগণের শাসন’। কোন রাষ্ট্র বা সমাজে গণতন্ত্র চর্চা কোন পর্যায়ে রয়েছে তা বুঝতে তিনটি সূচকে নজর দেওয়া হয়। এক. জনগণের হাতে ক্ষমতা কতটুকু, দুই. রাজনৈতিক সমতা কতখানি, আর তিন. এমন সামাজিক রীতি যা প্রথম দু’টোকে সমীহ করে। সমতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা আর আইনের শাসন গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি বলে মনে করা হয়।
শুক্রবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তুমুল বিতর্ক হয় আইন পাশ নিয়ে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নিয়ে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে পাশ করা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত। যদিও অনেকগুলো অধ্যাদেশ নিয়েও গত সপ্তাহকালের বেশি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংসদে বাহাস ও পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চলছে। ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির শেষ দিনে গুরুতর অভিযোগ তুলে বলা হয়, অধ্যাদেশ সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে হওয়া সমঝোতা ভঙ্গ করে সরকার জুলাই স্মৃতি জাদুঘর আইন সংশোধন করেছে। আবার কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সবগুলো অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন ও আলোচনার সুযোগ সরকার দেয়নি বলেও অভিযোগ তুলেন বিরোধী দলীয় নেতা।
সরকারি দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমঝোতা ও বিশ্বাস ভঙ্গ করে দিনদুপুরে ছলচাতুরীর মাধ্যমে বিল পাস করার অভিযোগ নিয়ে শুক্রবার সংসদ অধিবেশনে প্রায় এক ঘণ্টার বিতর্ক চলে। শেষে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে। এটি ছিল ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিরোধী দলের চতুর্থ দফা ওয়াকআউট। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশটি হুবহু অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। অধ্যাদেশটি হুবহু ঠিক রেখেই সংসদে বিলও তোলা হয়েছিল। তবে এ বিলে তিনটি সংশোধনী প্রস্তাব দেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান। তাঁর তিনটি সংশোধনী প্রস্তাবই গৃহীত হয় সংখ্যাগরিষ্ঠের জোরে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশে পরিচালনা পরিষদের সভাপতির বিষয়ে বলা ছিল, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে নিযুক্ত শিক্ষা, ইতিহাস, সাহিত্য বা সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কোনো প্রথিতযশা বিশেষজ্ঞ একজন ব্যক্তি পর্ষদের সভাপতি হবেন। এ ধারায় সংশোধনী এনে সংস্কৃতিমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে পর্ষদের সভাপতি করার বিধান করা হয়েছে। অধ্যাদেশে বলা ছিল, ‘পরিষদের কোনো সদস্য যেকোনো সময় সরকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারবেন।’ এতে সংশোধনী এনে বলা হয়েছে, পরিষদের কোনো সদস্য বা সভাপতি যেকোনো সময় সরকারের উদ্দেশে পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারবেন। অথবা সরকার জনস্বার্থে যেকোনো সময় যেকোনো সদস্যের মনোনয়ন বাতিল করতে পারবে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছিল, পরিষদের সভাপতি মনোনয়নের তারিখ থেকে তিন বছর পদে থাকবেন এবং অনধিক এক মেয়াদের জন্য পুনর্মনোনয়নের যোগ্য হবেন। এটা বাদ দেওয়ার জন্য সংশোধনী প্রস্তাব দেন সরকারি দলের ওই সদস্য। এটিও গৃহীত হয়। অর্থাৎ তিন সংশোধনীই আনীত ও গৃহীত হয় জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিচালনায় সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্যে।
চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অবিস্মরণীয় গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, নিদর্শন ও দলিল সংরক্ষণ, গবেষণা এবং প্রদর্শনের জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। শুধু চব্বিশের অভ্যুত্থান নয়, শেখ হাসিনার ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের গুম, খুন, আয়নাঘর, নিপীড়নের চিত্রও সেখানে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। পুরনো গণভবনে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং শিঘ্রই সেটি উদ্বোধন করা হবে। এই জাদুঘরের সঙ্গে চব্বিশের অভ্যুত্থানের নায়কদের বাড়তি আবেগ অনুভূতি জড়িত। শহীদ পরিবার ও অঙ্গ হারানো হাজারো জুলাইযোদ্ধার জন্যেও এই জাদুঘরটি অত্যন্ত গরুত্বপূর্ণ। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে অন্যান্য জাদুঘরের মতোই এটি পরিচালিত হবে। মন্ত্রণালয়ের অধীনে অন্য অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সবগুলোর পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী? কেন তাদেরই পরিচালনা পরিষদের প্রধান থাকতে হবে? অধ্যাদেশে যে বিধান রাখা হয়েছিল তাতে পরিবর্তন কি খুবই জরুরি ছিল? এ প্রশ্নগুলো উপেক্ষা করার মতো নয়।
যদিও সংসদে বিরোধী দলের তীব্র আপত্তির মুখে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, সংশোধনীর বিষয়ে তিনি জানতেন না। মন্ত্রীর বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য নয়। কোন বিলের বিষয়ে সংসধোনী প্রস্তাব দেওয়ার একটা সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়ায় বিল উত্থাপনকারি মন্ত্রীর অবধারিতভাবেই জানার কথা। আবার সংসদে পাশ হওয়ার সময় সংসদ সদস্যের দেওয়া সংশোধনী প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করারও সুযোগ ছিল। প্রস্তাব পাশ করে পরে ‘জানিনা, জানতাম না’ ধরনের বালখেল্য জবাব অগ্রহণযোগ্য। বিতর্কের মুখে আইনমন্ত্রী বলেছেন, প্রয়োজনে আগামী বাজেট অধিবেশনে বিলটি আবারও সংশোধন করা যেতে পারে। এ ধরনের আশ্বাসেও বিরোধী দল আশ্বস্ত হতে চায়নি। বিশেষ কমিটিতে যেসব বিল অবিকৃত অবস্থায় পাশের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল তা অবিকৃতই পাশ করা উচিৎ ছিল। তাতে বিরোধী দল সমঝোতা বা বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগ তুলতে পারতো না। ভবিষ্যতে বিশেষ কমিটি বা কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে কোন বিষয়ে সমঝোতায় উপনীত হতে বিরোধী দল দ্বিধা বা অস্বীকৃতি জানালে তা সরকারকেই বেকায়দায় ফেলবে।
বিলটি পাসের পর বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিষয়টি স্পীকারের নজরে আনেন। তিনি বলেন, বিশেষ কমিটিতে ঐকমত্য হয়েছিল ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু অনুমোদন করা হবে। এর একটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ। এটি বিল আকারে উত্থাপনের আধা ঘণ্টা আগে সংশোধনী দেওয়া হয়। সংশোধনী যে কেউ দিতে পারেন। বিরোধী দল চাইলে সব কটিতে দিতে পারত।
স্পিকারের উদ্দেশে নাহিদ বলেন, ‘কিন্তু সরকারি দল আজকে এটা আপনার সামনে, …এটা কিন্তু রাজনৈতিক সমঝোতা ভঙ্গ করা হলো। কনসেনশাস ভঙ্গ করা হলো। তাহলে বিশেষ কমিটি যেটা করা হয়েছিল, সেই কমিটির কোনো প্রয়োজন ছিল না।’ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, সরকারি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। তারা যেকোনো সংশোধনী আনতে পারে। কিন্তু বিলটি দিনদুপুরে, ছলচাতুরী করে, জোচ্চুরির মাধ্যমে পাস করে নেওয়া হয়েছে।
বিলটি নিয়ে দুই পক্ষের তুমুল বিতর্কের মধ্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিরোধী দলকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতা ও এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ নিজ আসন থেকে দাঁড়িয়ে সরকারি দলের ভূমিকার প্রতিবাদ জানান। এ সময় স্পিকার হাসনাত আবদুল্লাহর উদ্দেশে বলেন, ‘এত অসহিষ্ণু হলে চলবে না মিস্টার আবদুল্লাহ। দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ দ্য পার্লামেন্ট (এটা শাহবাগ চত্বর নয়, এটা সংসদ)। এখানে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে, শুনতে হবে।’
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও একই ধরনের অভিযোগ তুলে বলেন, কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত ছিল সব কটি অধ্যাদেশ সংসদে বিল আকারে আনা হবে। তিনি জানতে চান, পুলিশ সংস্কার কমিশন, গুম প্রতিরোধ কমিশন, দুদক-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-এগুলোর কী হবে। এগুলো নিয়ে আলোচনা না হওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং জানতে চান, এ বিলগুলো আনা হবে কি না। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যদি তাঁরা বড় মনের পরিচয় দিয়ে ঐকমত্যের জায়গাটাকে রেসপেক্ট করেন, আমরাও রেসপেক্ট করার চেষ্টা করব।’ এক পর্যায়ে বিরোধী দল ওয়াকআউট করতে উদ্যোগী হলে তখন স্পীকার মন্তব্য করেন, ‘গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনব্যবস্থা’।
এ বক্তব্যের পর বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই কথাটায় আরও দুঃখ পেলাম। আপনার কাছে আমরা প্রথম দিনই জাস্টিস আশা করেছিলাম। আপনিও বলেছিলেন যে আপনি জাস্টিস মেনটেইন করবেন। কিন্তু আজকের দিনটা, এই সময় এসে আমরা জাস্টিস পেলাম না।’
বিরোধী দলের দুঃখ, কষ্ট, জাস্টিস না পাওয়ার আক্ষেপ থাকবে। থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। বিরোধী দলের দায়িত্ব হচ্ছে সরকারের বিচ্যুতিগুলো ধরিয়ে দেওয়া। সঠিক পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করা। জনগণের আশা-আকাঙ্খা পূরণে চাপে রাখা। কিন্তু কেন যেন মনে হচ্ছে- সরকার অপ্রয়োজনেও কিছু সমস্যার জন্ম দিচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে জনগুরুত্বপূর্ণ ২০টি অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দেয়নি সরকার। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে-সুপ্রিমকোর্টের বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, গণভোট, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য অধিকার এবং রাজস্ব ও ব্যবস্থাপনার অধ্যাদেশ অন্যতম। ইতোমধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসব অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারিয়েছে। বাকি ১১৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৭টি হুবহু এবং ১৬টি সংশোধিত আকারে পাশ হয়েছে। এক্ষেত্রে সংসদের এবারের অধিবেশনে মোট ৯১টি বিল পাশ হয়েছে। অর্থাৎ কোনো বিলের মধ্যে একাধিক অধ্যাদেশ রয়েছে।
বাতিল হওয়া অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে অনেকগুলোর মূল কথা ছিল দেশে আইনের শাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া। এটি দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের ধারণ করেছিল। কিন্তু সরকার তা আমলে নেয়নি। যদিও সরকার বলছে, যে অধ্যাদেশগুলো পাশ হয়নি, তা আরও গভীর যাচাই-বাছাই করে আইনে রূপ দেওয়া হবে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনসহ ১৬টি অধ্যাদেশ আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করতে পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। বিরোধী দলের সঙ্গে পরার্মশ শেষে এগুলো পরে উত্থাপন করা হবে।’ সংসদে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেছেন, ‘কোনো অধ্যাদেশ বাতিল হয়নি। আগামী বাজেট অধিবেশনে যাচাই-বাছাই করে এগুলো পাশ করা হবে।’ আইনমন্ত্রী ও চীফ হুইপের আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে চাই। এখনই চূড়ান্তভাবে আশাহত হতে চাই না। গণতন্ত্রমনা মানুষের যাতে আশাভঙ্গ না হয় সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখবে সরকার।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সব যোগ্য নাগরিক আইনের কাছে সমান, আর তাদের আইন তৈরির প্রক্রিয়ায় সমান সুযোগ থাকে। যেমন, প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে প্রত্যেকের ভোটের মূল্য একই। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এমন একটি শাসন ব্যবস্থা মধ্য দিয়ে পরিচালিত হতে হয় যেখানে নাগরিকরা সরাসরি বা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ করেন। সরকার তার কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। আর এ জবাবদিহিতাটা সরকারের মেয়াদান্তে ভোটের মাধ্যমে শুধু নয়, প্রতিদিনের কর্মকাণ্ডে থাকা চাই।
স্পীকার হিসেবে মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমদ এখনও পর্যন্ত ভালো করছেন। প্রথম বারের মতো স্পীকারের আসনে বসে প্রথম দিন থেকেই সংসদ পরিচালনায় তিনি দক্ষতার সাক্ষর রাখছেন। চেয়ারে বসেই বিরোধী দলের প্রতি সুুবিচার করার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে হাসনাত আবদুল্লাহকে তিনি যেভাবে শাসানোর সুরে ‘শাহবাগ চত্ত্বর’ দেখিয়েছেন, তা শোভন ঠেকেনি। শাহবাগ চত্ত্বরে হাসনাত আবদুল্লাহদের জীবনবাজি রেখে বেপরোয়া ও দুর্বিনীত লড়াই স্পীকারকে আজকের আসনে বসিয়েছে। হাসনাতরা উদ্যত পুলিশের দিকে পাল্টা ঔদ্ধ্যত্ত দেখিয়ে টিশার্ট খুলে বুকে গুলি করার জন্য হুংকার দিয়ে এগিয়ে না গেলে অভ্যুত্থান সফল হতো না। গণতান্ত্রিক সংসদও অধরা থেকে যেতো। দেশ-বিদেশের কার্যকর সংসদগুলোর দিকে নজর দিলে রাজপথ বা জনসভার মাঠের চেয়ে সংসদে অনেক বেশি উত্তাপ দেখা যাবে। রাজনৈতিক উত্তেজনা ও উত্তাপটা সংসদের চার দেয়ালের মধ্যে রেখে প্রশমনের প্রয়াস থাকলে সরকারই বেশি লাভবান হয়। শাহবাগ চত্ত্বরের দিকে ঠেলে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সেটা কোন সরকারের জন্যে সুখকর হয় না।
লেখক : কলামিস্ট, রাজনীতি বিশ্লেষক ও যুগ্ম সম্পাদক, আমার দেশ