রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৮ সফর, ১৪৪৮ হিজরি

এক-এগারোর গোপন ষড়যন্ত্রে জড়িত ১১ জন ক্ষমতাবান

মুক্তবাণী রিপোর্ট : ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ এক-এগারো নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। টানা ১৫ দিনের রিমান্ড শেষে গত বৃহস্পতিবার তাকে আবারও তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এক-এগারোর ষড়যন্ত্র, এর মূল পরিকল্পনাকারী ও লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, মামুন খালেদ ক্ষমতাবান এগারোজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, তিনি ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন না, বরং সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড অনুযায়ী একজন বাস্তবায়নকারী।

তিনি জানান, ফখরুদ্দীন সরকারের নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার পর তাকে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক করা হয়।

মামুনের বক্তব্য অনুযায়ী, তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের নেতৃত্বে একটি কোর গ্রুপ এক-এগারো সরকার পরিচালনা করত। সেনা সদরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৈঠকে ঠিক করা হতো সরকার কিভাবে চলবে, কাকে গ্রেপ্তার করা হবে, কার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হবে।

গোয়েন্দাদের প্রশ্নে মামুন যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তারা হলেন- জেনারেল মইন উ আহমেদ, জেনারেল মাসুদ উদ্দিন, ব্রিগেডিয়ার বারী, ব্রিগেডিয়ার আমিন, দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান জেনারেল (অব.) হাসান মশহুদ চৌধুরী, তৎকালীন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন, তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, সুজনের নির্বাহী পরিচালক বদিউল আলম মজুমদার, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম এবং তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রেস সচিব ফাহিম মুনয়েম।

মামুন দাবি করেন, জনমত তৈরির দায়িত্ব নেন দুই সম্পাদক ও প্রেস সচিব। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তারেক রহমান ও দুই নেত্রীকে গ্রেপ্তারের প্রস্তাব দেন বাংলা দৈনিকের সম্পাদক, আর ইংরেজি দৈনিকের সম্পাদক তাতে সম্মতি জানান। পরবর্তীতে প্রথম আলোর সম্পাদক নিজের নামে প্রথম পাতায় ‘দুই নেত্রীকে সরে যেতে হবে’ শিরোনামে মন্তব্য প্রতিবেদন লেখেন।

তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে ভাঙন সৃষ্টির পরিকল্পনাও ওই দুই সম্পাদক করেছিলেন। বিএনপির আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদ ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন তারা। ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব দেন দুই সম্পাদক।

মামুন বলেন, সেনাবাহিনীর ভেতরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সরকারের দক্ষতা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। জেনারেল মইনের ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসে এবং সরকার নির্বাচনের পথে হাঁটতে শুরু করে।