নিজস্ব প্রতিবেদক : চাকরি ফেরত পেতে লাগাতার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শাপলা চত্বরের পাশে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করছেন।
অন্যদিকে মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের সামনে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ব্যাংকটির শাপলা চত্বর এলাকা ও দিলকুশার প্রধান কার্যালয়ের সামনে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করা হয়।
সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতাকর্মীরা দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের নিচে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য ও স্লোগান দিচ্ছেন।
তারা ইসলামী ব্যাংকের লুটপাটকারী ও ব্যাংক দখলকারী হিসেবে এস আলম ও চাকরিচ্যুতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান ও তথ্য তুলে ধরছেন।
তারা জানান, ব্যাংকের সচেতন গ্রাহকেরা ব্যাংকটিকে বাঁচানোর জন্য অবস্থান করছেন।
এর আগে অবস্থান নেওয়ার সময় ব্যাংক ডাকাত ও লুটেরারা তাদের ওপর হামলা করেছিল। তারা আজও অবস্থান করছে।
আমরা তাদের এই ব্যাংকের সামনে দেখতে চাই না।
অন্যদিকে, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শাপলা চত্বরের পাশে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের স্লোগানের মধ্যে রয়েছে, ‘দফা এক, দাবি এক, চাকরি ফেরত চাই’। চট্টগ্রামের পটিয়া ছাড়া কর্মসূচিতে বেশ কিছু চাকরিচ্যুত সাধারণ মানুষ ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী যোগ দিয়েছেন।
অন্যতম চাকরিচ্যুত আমিনুল জানান, আমাদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, আমরা চাকরি ফেরত চাই। চাকরিচ্যুত করে আমাদের সঙ্গে মানবিক ও আইনিভাবে অবিচার করা হয়েছে। আমরা আইনানুগ উপায়ে চাকরি পেয়েছিলাম। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কোনো আইনের তোয়াক্কা না করে ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমরা এখন নির্বাচিত সরকারের কাছে ন্যায়বিচার চাই।
অন্যদিকে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে কর্মসূচি পালনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্যাংকটিকে লুট করেছিল এস আলম ও তাদের দোসররা। তারা বের হয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে এবং ব্যাংকটি এখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু সেই লুটেরারা আবার ঢোকার পাঁয়তারা করছে। সচেতন গ্রাহক সমাজের পক্ষ থেকে তা কোনোভাবেই হতে দেওয়া হবে না।
ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে গ্রাহকরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। একইসঙ্গে এস আলম গ্রুপের বিদেশে পাচার করা সম্পদ উদ্ধার করে ব্যাংকের স্বার্থে তা বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানান তিনি।
অধ্যাপক নুরুন্নবী আরও বলেন, অবৈধভাবে নেওয়া ঋণ সুবিধাগুলো সমন্বয় করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।