শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৩ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বহিঃশক্তির সমীহযোগ্য সশস্ত্র বাহিনী গড়তে চান প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা এমন এক সশস্ত্র বাহিনী চাই, যাদেরকে বহিঃশক্তি সমীহ করবে, আর দেশের জনগণ রাখবে আস্থায়। পেশাদারিত্বের প্রশ্নে কোনো আপস না করে সশস্ত্র বাহিনীকে সব সময় একটি সুউচ্চ আদর্শিক অবস্থানে থাকতে হবে।

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর দরবারে কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা রক্ষায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি স্তরে দেশপ্রেমের যে অগ্নিশিখা জ্বালিয়েছিলেন, তা যেন কখনো নিভে না যায়। একটি ঐক্যবদ্ধ সশস্ত্র বাহিনী থাকলে বাংলাদেশকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা স্মরণ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা স্বাধীনতা প্রিয় জনগণকে আশান্বিত করেছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী অস্থির সময় ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার মধ্যেও বাহিনী অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শিল্পাঞ্চল, নগর-বন্দর ও স্থবির অর্থনীতির চাকা সচল রাখতেও তাদের ভূমিকা ছিল ইতিবাচক।

তিনি আরও বলেন, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক আয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা ছিল দেশ, জনগণ ও গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলের সম্পত্তি নয়। এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের শক্তি ও মর্যাদার প্রতীক। সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনগণের অবিচল আস্থাই হতে হবে বাহিনীর পথ চলার প্রধান ভিত্তি। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই প্রতিটি সদস্যের একমাত্র ও পবিত্র দায়িত্ব।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অতীতে নানা ঘটনা ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার চেষ্টা হয়েছে। ওই ঘটনার মাধ্যমে বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বাহিনীকে বিতর্কিত করার প্রচেষ্টা দেখা গেছে।

বর্তমান সময়ে যুদ্ধের ধরন পাল্টেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ নিরাপত্তা কেবল স্থল সীমান্তে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সমুদ্র, আকাশ, সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, প্রযুক্তিনির্ভর ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উপকূলীয় নিরাপত্তা, জ্বালানি অবকাঠামো ও আঞ্চলিক ভূকৌশলগত প্রতিযোগিতা।

তিনি আহ্বান জানান, শুধু আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম সংযোজন নয়, বরং পেশাগত দক্ষতা, কৌশলগত প্রজ্ঞা ও জ্ঞানভিত্তিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে সমসাময়িক ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে।