বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ছুটির দিনে পাম্পে দীর্ঘ লাইন, তেল পেতে ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক : পয়লা বৈশাখের ছুটির দিনেও রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের চিত্র দেখা গেছে। তেল নিতে চালকদের অপেক্ষা করতে হয়েছে অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা। ছুটি উপলক্ষে অনেক পাম্প বন্ধ থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন পাম্প ঘুরে এমন পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, শাহবাগের মেঘনা মডেল পাম্প এবং মাতুয়াইলের মেসার্স খান অ্যান্ড চৌধুরী ফিলিং স্টেশনসহ বেশ কয়েকটি স্থানে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের লাইন মহাখালী পর্যন্ত পৌঁছায়, আর প্রাইভেট কারের লাইন নাখালপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালক প্রান্ত কুমার জানান, তেল নিতে অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা সময় লাগছে। ছুটির দিনে অনেক পাম্প বন্ধ থাকায় খোলা পাম্পগুলোতে চাপ বেড়েছে।

আসাদগেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে চালক সুজন জানান, সকাল থেকে তিন ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, তেল পেতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। মাতুয়াইলের খান অ্যান্ড চৌধুরী ফিলিং স্টেশনেও দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে, রাজধানীতে তেল বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে সাতটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য কিউআর কোডভিত্তিক মোবাইল অ্যাপ ‘ফুয়েল পাশ’ চালু করা হয়েছে। এসব পাম্পে অ্যাপ ব্যবহারকারীরা সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকার তেল নিতে পারছেন, আর অ্যাপ ছাড়া দেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল।

সেবাটি চালু হয়েছে তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, আসাদগেটের সোনার বাংলা ও তালুকদার ফিলিং স্টেশন, মহাখালীর গুলশান সার্ভিস স্টেশন, শাহবাগের মেঘনা মডেল পাম্প, নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার এবং কল্যাণপুরের খালেক সার্ভিস স্টেশনে।

উল্লেখ্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। অনেকেই প্রয়োজন ছাড়াও অতিরিক্ত তেল কিনতে থাকেন, যা ‘প্যানিক বায়িং’ হিসেবে পরিচিত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার গত ৬ মার্চ থেকে জ্বালানি তেলে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে।