শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৮ শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

আইএমএফ ঋণের কিস্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা, আলোচনায় বাংলাদেশ

বিশেষ প্রতিবেদক : কম রাজস্ব আহরণ ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কার্যক্রমে ধীরগতি থাকায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের কিস্তি প্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুনের মধ্যে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়ের কথা থাকলেও তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশ এ অর্থ পেতে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। সংস্থাটি অতিরিক্ত শর্তসহ নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত থাকবেন। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে বক্তব্য দেবেন।

আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, চলমান ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় জুন মাসে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের কথা রয়েছে। তবে সংস্থাটি বলছে, কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পেতে বাংলাদেশকে সংস্কার কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে হবে।

আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন সম্প্রতি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সংস্কার কার্যক্রম কতটা বাস্তবায়ন করছে, সেটিই মূলত নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্ত। ব্যাংক রেজল্যুশন বিলে পুরনো মালিকদের ফিরে আসার সুযোগ দেওয়ায় সংস্থাটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এছাড়া সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের আমানতকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে বাজেটের অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনারও সমালোচনা করেছে আইএমএফ। তাদের মতে, এ ধরনের ক্ষতিপূরণ ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স স্কিম বা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে দেওয়া উচিত।

বর্তমান কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফের কঠোর অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল তুলনামূলক সহজ শর্তে অতিরিক্ত অর্থায়নের সম্ভাবনা নিয়েও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে শেখ হাসিনা সরকারের সময় বাংলাদেশ আইএমএফের সঙ্গে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি করে। পরবর্তীতে অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় আরও ৮০০ মিলিয়ন ডলার যোগ হওয়ায় কর্মসূচির মোট আকার দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ৩ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে। তবে গত ডিসেম্বরে একটি কিস্তি আটকে যায় নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা না হওয়ায়।

ওয়াশিংটনে অবস্থানরত অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশে অর্থায়নে দাতাসংস্থাগুলো ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে। তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন, যেখানে দুই দেশের বাণিজ্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।