রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৩ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৮ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি ২ শিক্ষার্থী হত্যায় গ্রেফতার কে এই হিশাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) অধ্যয়নরত বাংলাদেশি ২ শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হিশাম আবুগারবিয়েহকে নিয়ে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লিমনের সাবেক রুমমেট ২৬ বছর বয়সী তরুণ হিশাম আবুগারবিয়েহ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক সহিংস অপরাধের অভিযোগ ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।

হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ নিহত জামিল আহমেদ লিমনের রুমমেট ছিলেন। লিমন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন।

সিএনএনের খবরে বলা হয়, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আবুঘরবেহ। সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র সিএনএনকে জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তি (আবুঘরবেহ) ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। তিনি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।

হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুটি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে এমন হত্যাকে ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার বলে।

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের (পুলিশ) কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ আবুঘরবেহকে জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে।

লিমনের সঙ্গে একই দিন নিখোঁজ হয়েছিলেন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নামের আরেক পিএইচডি শিক্ষার্থী। বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। বৃষ্টির মরদেহ এখনও উদ্ধার করা যায়নি।

হিশাম আবুগারবিয়েহর অতীত :

আদালত ও শেরিফ অফিসের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে হিশাম সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।

হিশাম ইউএসএফের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। তবে গ্রেপ্তারের সময় তিনি আর ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন না।

আদালতে রেকর্ডে দেখা যায়, ২০২৩ সালের মে ও সেপ্টেম্বর মাসে তার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাত করা এবং একটি জনশূন্য বাড়িতে চুরির অভিযোগ আনা হয়েছিল। যদিও সে সময় এগুলোকে অপেক্ষাকৃত লঘু গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল।

হিলসবোরো কাউন্টি আদালতের নথিতে আরও দেখা যায় যে, হিশামের সহিংস আচরণের কারণে তার নিজের পরিবারের এক সদস্যই তার বিরুদ্ধে দুটি ‘ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স ইনজাংশন’ বা পারিবারিক সুরক্ষা নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে একটি আবেদন আদালত মঞ্জুর করেছিল।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে।

হিলসবোরো কাউন্টির চিফ ডেপুটি জোসেফ মাউরার জানিয়েছেন, জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে হিশামকে কয়েকটি অভিযোগে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে মৃত্যুর সংবাদ না দেওয়া ও অবৈধভাবে মৃতদেহ সরানো, আলামত নষ্ট করা, নিজেকে মিথ্যা ও অন্যায়ভাবে আটকে রাখা এবং পারিবারিক সহিংসতা ও শারীরিক আঘাত করা।

পুলিশ জানায়, লিমনের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে।