মুক্তবাণী রিপোর্ট : এক-এগারোর অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, রাজনীতি থেকে বিএনপি এবং জিয়া পরিবারকে মাইনাস করার জন্যই তিনি এক-এগারোর সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
তিনি বলেন, আত্মীয় হওয়ার পরও তাঁকে সেনাপ্রধান না করার কারণে তিনি জিয়া পরিবারের ওপর প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তদন্তকারীদের কাছে মাসুদ স্বীকার করেছেন, তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতনের পরিকল্পনা তাঁরই ছিল।
মাসুদ উদ্দিন আশা করেছিলেন, এর ফলে বেগম খালেদা জিয়া তাঁদের সব শর্ত মেনে নেবেন এবং বিদেশ চলে যাবেন।
কিন্তু বেগম জিয়া শেষ পর্যন্ত অনড় ছিলেন। মাসুদ উদ্দিন জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত বেগম জিয়া বিদেশে যেতে রাজি হননি।
তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমানকে গ্রেপ্তারের পেছনে মূল কারণ ছিল জিয়া পরিবারের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা। যেন তারা রাজনীতি থেকে বিদায় নেয়।
মাসুদ উদ্দিন স্বীকার করেন, বেগম জিয়া ও তারেক রহমানের আপসহীন ভূমিকার কারণে তাঁদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
মাসুদ বলেন, তিনি সেনাপ্রধান হতে চেয়েছিলেন। এক-এগারোর পর মইন সেনাপ্রধানের পদ ছেড়ে ক্ষমতা নেবেন এবং তিনি (মাসুদ উদ্দিন) সেনাপ্রধান হবেন, এমনটাই পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বেগম জিয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি। মাসুদ উদ্দিন স্বীকার করেছেন, তিনি অবসর গ্রহণের পর অবৈধভাবে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার সম্পদ বানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে তার সম্পদ রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন।
এক-এগারোর অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন রিমান্ডে এভাবেই মুখ খুলেছেন। এক-এগারোর ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) জুলাই গণ অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, এ মামলায় গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ১১ এপ্রিল চার দিনের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন আদালত।
এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে বিধি মোতাবেক তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় ১২ এপ্রিল বেলা ২টার দিকে তিনি অসুস্থ্য বোধ করলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে ২৭ এপ্রিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ছাড়পত্র দেয়। আবেদনে আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে আসামির কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তে সহায়ক হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে।
উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ মাসুদ উদ্দিনকে বারিধারা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে একাধিক মামলায় কয়েক দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে এ সময় মাসুদ এক-এগারো সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
ওয়ান-ইলেভেন সংক্রান্ত বই ‘এক-এগারো’র লেখক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, ওয়ান-ইলেভেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ওই সময় যে কয়েকজন সেনাকর্মকর্তা খুবই প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন তিনি। ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে তখনকার প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহমদের প্রধান উপদেষ্টার পদ এবং তাঁর উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদের পদত্যাগের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছিলেন তখনকার সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ।
ওই সময় আরও তিনজন সেনাকর্মকর্তা ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন। তারা হলেন- তখনকার নাইন ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, তখনকার ডিজিএফআইয়ের ভারপ্রাপ্ত ডিজি ফজলুল বারী ও তখনকার ডিজিএফআইয়ের আরেকজন কর্মকর্তা পরবর্তীতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এ টি এম আমিন। এর মধ্যে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ছাড়া অন্যদের কেউই দীর্ঘকাল ধরে দেশে নেই।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি শপথ নেওয়া ড. ফখরুদ্দীন আহমদের সরকার সে বছরের ৮ মার্চ তখনকার উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মতিনকে চেয়ারম্যান এবং লে. জেনারেল মাসুদ চৌধুরীকে প্রধান সমন্বয়কারী করে গুরুতর অপরাধ দমন অভিযান সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করেছিল।
তবে তারও আগে ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদ গঠনেও মাসুদ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে তখনকার সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ তাঁর ‘শান্তির স্বপ্নে’ বইয়ে উল্লেখ করেছেন।
বইয়ের এক অংশে তিনি লিখেছেন যে, তারা তখন প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার জন্য শুরুতে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রস্তাব দিলেও তিনি তাতে রাজি হননি।
‘ড. ইউনূস অস্বীকৃতি জানানোর পর ড. ফখরুদ্দীনের নাম উঠে আসে। মেজর জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ড. ফখরুদ্দীনের বাসায় যান এবং রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তখন গভীর রাত। আমি ড. ফখরুদ্দীনের বাসায় ফোন করলাম। তিনি সম্ভবত ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। আমিও তাঁকে প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণে আমন্ত্রণ জানালাম’।
এই বইতে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ভূমিকা প্রসঙ্গে তখনকার সেনাপ্রধান লিখেছেন, ‘…এ সময়ে দেশের গোয়েন্দা বিভাগ ও সাভার ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী উপদেষ্টা পরিষদ গঠনে সর্বাত্মক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসে। সাভার ডিভিশনের জিওসি দীর্ঘদিন ডিজিএফআইতে কর্মরত থাকার সুবাধে তার মতামত এ পরিষদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে’।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন এক-এগারোর পট পরিবর্তনের প্রধান উদ্যোক্তা বা মূল কুশীলব। তখন তিনি ছিলেন সাভারে অবস্থিত সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি। তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর-ডিজিএফআই’র সঙ্গে মিলে পুরো পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন। তখন এমন আলোচনাও ছিল যে তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ শুরুতে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন; যদিও তিনি পরে ওই পরিকল্পনায় যুক্ত হন।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির দিন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের সঙ্গে বঙ্গভবনে যে সেনা কর্মকর্তারা গিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে নবম পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীও ছিলেন। তিনি সেদিন বঙ্গভবনে সশস্ত্র অবস্থায় গিয়ে চাপ প্রয়োগ করেন। চাপের মুখে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন। ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ তখন একই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। সেই পদ থেকেও তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল।
এক-এগারো পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল তথাকথিত ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’। যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে রাজনীতি থেকে সরানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
সেই সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা এবং বিএনপি নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিশেষ করে গোয়েন্দা হেফাজতে নিয়ে তারেক রহমানের ওপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ আজও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। যেখানে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। মাসুদ উদ্দিন রিমান্ডে তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছেন। মাসুদ বলেছেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকলেও শুধু ক্ষোভের কারণেই তিনি এ নির্যাতন চালান।
এক-এগারো সরকারের সবচেয়ে আলোচিত কার্যক্রম ছিল দুর্নীতিবিরোধী অভিযান। বহু শীর্ষ রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও আমলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিশেষ কারাগার, জিজ্ঞাসাবাদ, রিমান্ড-এসব বিষয় তখন ব্যাপক আলোচনায় আসে।
ওই বিশেষ অভিযান নিয়ে বিতর্কও ছিল। অভিযোগ ওঠে, অনেক গ্রেপ্তারে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। মাসুদ উদ্দিনের নেতৃত্বে শীর্ষ দুর্নীতিবাজের তথাকথিত তালিকা তৈরি করে হয়রানি করা হয়। তাদের থেকে অবৈধভাবে অর্থ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত এই অর্থ আদায়কে অবৈধ ঘোষণা করে। আদায় করা প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই টাকা আজও ফেরত দেওয়া হয়নি। এই সময় মাসুদ বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।
মাসুদ উদ্দিন তথাকথিত সংস্কারের নামে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ ভাঙার মুখ্য কারিগর ছিলেন। কাউকে ভয় দেখিয়ে, কাউকে টোপ দিয়ে তিনি আলাদা বিএনপি গঠনের চেষ্টা করেছিল বলেও রিমান্ডে স্বীকার করেছেন মাসুদ উদ্দিন। এই কাজে তাঁকে সহযোগিতা করেছেন তৎকালীন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াৎ হোসেন। মাসুদ উদ্দিন বলেছেন, মাইনাস টু ফর্মুলার প্রবর্তক ছিল দুটি প্রভাবশালী পত্রিকার সম্পাদক। তাদের সঙ্গে তিনি সেই সময় নিয়মিত বৈঠক করতেন বলেও রিমান্ডে জানিয়েছিলেন মাসুদ।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৭৫ সালে রক্ষীবাহিনীতে। ‘৭৫ এর পট পরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমান রক্ষীবাহিনী থেকে অন্যান্যদের সঙ্গে তাকে সেনাবাহিনীতে যুক্ত করেন। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। রক্ষীবাহিনী থেকে সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে একমাত্র তিনি যেতে পেরেছিলেন। ২০০৭ সালে তিনি নবম ডিভিশনের জিওসি ছিলেন। যা তাকে ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
পারিবারিকভাবে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আত্মীয়। তাঁর ছোট ভাই সাঈদ এস্কান্দারের ভায়রা ভাই। এই সম্পর্কের জেরে তার পদোন্নতি ও প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।
একপর্যায়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের সঙ্গে কিছু কিছু বিষয়ে মাসুদ উদ্দিনের মতভেদ দেখা দেয়। এরপর ২০০৮ সালের ২ জুন তাঁর চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যাস্ত করে সেনাবাহিনী থেকে সরিয়ে দেন মইন উ আহমেদ। এরপর ২ সেপ্টেম্বর তাঁকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার তিন দফায় তাঁর চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করে। অবসর গ্রহণের পর তিনি ঢাকায় একাধিক ব্যবসায় যুক্ত হন। ২০১৪ সালে অবসর গ্রহণের পর মাসুদ উদ্দিন ব্যবসায় যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে জনশক্তি রপ্তানি বা রিক্রুটিং ব্যবসার লাইসেন্স পান। এরপর মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো নিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল অর্থ কামানোর অভিযোগ ওঠে।
মাসুদ উদ্দিন জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসন থেকে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে সংসদ সদস্যও হয়েছেন। অবশ্য তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে প্রথমে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন; পরে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন। জাতীয় পার্টিতে তাঁর যোগদানও আওয়ামী লীগ শীর্ষ নেতৃত্বের পরামর্শে বা সিদ্ধান্তে হয়েছিল বলে তখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ছিল।
অবসরের পর তিনি জনশক্তি রপ্তানি ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় জড়ান। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কারসাজি ও প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত বছরের ২৫ আগস্ট মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তার বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে আবারও রিমান্ডে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।