আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তান আবারও পরিষ্কার করে দিয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে তারা ইসরাইলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না। দেশটির এই পররাষ্ট্রনীতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।
শুক্রবার ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এ কথা জানান। পাকিস্তান দূতাবাসে সাংবাদিকদের সামনে দার নিশ্চিত করেন, ফিলিস্তিন ও গাজার চলমান সংকট নিয়ে ইসলামাবাদের মূল নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তিনি জানান, সপ্তাহের শুরুতে জাতিসংঘে আলোচনার সময়ও এই একই অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বেশ কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। দারের এই বক্তব্য মূলত সেই আহ্বানের সরাসরি জবাব। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত না হলে ইসরাইলের ব্যাপারে পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থান বদলাবে না।’
ফিলিস্তিন ইস্যুর বাইরেও এই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। দার জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান যে নীরব কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করছে, তার প্রশংসা করেছে আমেরিকা।’
আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়েও দুই পক্ষ বিস্তারিত কথা বলেছে। তবে মধ্যস্থতার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি দার।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গোপনীয়তার নিয়মের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, ‘পাকিস্তান আশাবাদী যে তার এই ভূমিকা অঞ্চলে বৃহত্তর শান্তি প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে পারবে।’
আব্রাহাম অ্যাকর্ডস নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বৈঠক শেষে দুই দেশ সম্পর্ক আরও গভীর করতে একমত হয়েছে। দার জানান, পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব গ্রহণ করে রুবিও একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়তে গভীর আলোচনা শুরু করতে রাজি হয়েছেন। এই সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে রুবিও চলতি বছরের মধ্যে পাকিস্তানে সরকারি সফরে আসবেন বলেও সম্মত হয়েছেন।