রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২০ জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন বসছে রোববার

নিজস্ব প্রতিবেদক : নতুন সরকারের অধীনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম জাতীয় বাজেট পেশ ও পাস করার লক্ষ্য নিয়ে রোববার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় বা বাজেট অধিবেশন।

ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের মূল সংসদ কক্ষে আগামীকাল বিকেল ৩টায় এই সংসদীয় অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত বিশেষ ক্ষমতাবলে এই রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির সুনির্দিষ্ট আদেশ জারির পর সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে বাজেট অধিবেশনটি অত্যন্ত সুষ্ঠু, নির্বিঘ্ন ও যথাযথভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগে গত ৭ মে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার সুনির্দিষ্ট স্বাক্ষরে এই অধিবেশন আহ্বান সংক্রান্ত দাফতরিক বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়েছিল।

মূলত দীর্ঘমেয়াদি এই বিশেষ অধিবেশনেই আগামী ২০২৬-২৭ নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশ, চুলচেরা বিশ্লেষণ এবং তা সংসদে পাস করার যাবতীয় আইনগত ও দাফতরিক কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরুর দিন প্রথমে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে এই গুরুত্বপূর্ণ বাজেট অধিবেশন কত কার্যদিবস পর্যন্ত চলবে তা চূড়ান্ত করা হবে।

জাতীয় সংসদের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, প্রতি বছর জুন মাসে দেশের বার্ষিক জাতীয় বাজেটের ওপর বিস্তারিত আলোচনার জন্য সংসদ অধিবেশন বসে, যা রাষ্ট্রের ইতিহাসে বাজেট অধিবেশন হিসেবে পরিচিত। আসন্ন এই দ্বিতীয় অধিবেশনে বর্তমান নতুন সরকারের সুদূরপ্রসারী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিশেষ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রতিফলন হিসেবে নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হবে এবং এর ওপর ট্রেজারি বেঞ্চ ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা দীর্ঘ বিস্তারিত আলোচনায় অংশ নেবেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১২ মার্চ দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ঐতিহাসিক অধিবেশন বসেছিল, যা দীর্ঘ ২৫ কার্যদিবস ধরে অত্যন্ত সফলভাবে চলার পর গত ৩০ এপ্রিল শেষ হয়। সেই প্রথম অধিবেশনে মোট ৯৪টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস ও ১৩৩টি জরুরি সরকারি অধ্যাদেশ উত্থাপনের রেকর্ড গড়া হয়েছিল।