মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২২ জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘পূর্ণ সমন্বয়’ করেই হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল : ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান দাবি করেছে, তাদের ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি বিমান হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে “সম্পূর্ণ সমন্বয়” করেই চালানো হয়েছে। সোমবার তেহরানে এক ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই অভিযোগ করেন।-সূত্র : আনাদোলু।

তিনি বলেন, ইসরায়েল কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব সমন্বয় ও সহযোগিতা ছাড়া এমন হামলা চালাতে পারে না বলে তেহরানের বিশ্বাস। তার মতে, এই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা আরও বাড়লে তার দায় যুক্তরাষ্ট্রকেও বহন করতে হবে।

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা এমন এক সময় ঘটেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। যদিও দুই পক্ষের নতুন হামলায় সেই পরিস্থিতি আবারও ভেঙে পড়েছে।

ইসরায়েল প্রথমে ইরানে বিমান হামলা চালায়, যার জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে বলে জানানো হয়। এর আগে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবেও এসব পাল্টা আক্রমণ হয়।

ইরানের মুখপাত্র আরও বলেন, কেউই বিশ্বাস করে না যে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নেবে। তার মতে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা এই হামলার ফলে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভ্রান্তিকর ও দ্ব্যর্থক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে।

ইরান আবারও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর প্রধান রাফায়েল গ্রোসি’র বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছে। তেহরানের দাবি, তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে পক্ষপাতমূলক অবস্থান নিচ্ছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলার অংশ হিসেবে ইসরায়েল ইরানের একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় আঘাত হানে, যার ফলে আংশিক ক্ষতি হয়। জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইসরায়েলের হাইফা অঞ্চলের শিল্প লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।

এর আগে ইরান ইসরায়েলের রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথাও জানায়।

আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ভবিষ্যতে হামলা অব্যাহত থাকলে “আরও বড় ও কঠোর প্রতিক্রিয়া” দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান–ইসরায়েল সংঘাত এখন শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এতে যুক্তরাষ্ট্র, লেবানন এবং ইয়েমেনসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তিও জড়িয়ে পড়ছে। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে।