স্পোর্টস ডেস্ক : লাইপজিগের ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার ইয়ান দিওমান্দেকে দলে ভেড়ানোর লড়াইয়ে হঠাৎই নতুন মোড়। ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন পিএসজির প্রথম পছন্দে থাকা এই আইভোরিয়ান তারকাকে ছিনিয়ে নিতে এবার নতুন করে লড়াইয়ে যোগ দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
স্প্যানিশ পরাশক্তিরা ইতোমধ্যেই জার্মান ক্লাব লাইপজিগের সঙ্গে দলবদলের আলোচনার টেবিল গরম করতে শুরু করেছে।
আইভরি কোস্টের এই উদীয়মান তারকার প্রথম পছন্দ ছিল প্যারিস সেন জার্মেই (পিএসজি)। কিন্তু লাইপজিগের চাওয়া চড়া অঙ্কের ট্রান্সফার ফি মেটাতে দ্বিধাবোধ করায় চুক্তি থমকে দাঁড়ায়। ঠিক সেই সুযোগটাই কাজে লাগাতে মাঠ নেমেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
রিয়ালের এই আগ্রাসী মনোভাবের কারণে দিওমান্দেকে পাওয়ার লড়াই এখন তুঙ্গে।
সামার উইন্ডোতে রিয়ালের ডানপ্রান্তের আক্রমণভাগ শক্তিশালী করার এই চেষ্টার পেছনে রয়েছে ইব্রাহিম দিয়াসের সম্ভাব্য বিদায়। যদিও মরক্কান এই উইঙ্গার সান্তিয়াগো বার্নাবেউতে থেকে যেতে আগ্রহী, তবুও রিয়াল কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় দিওমান্দেকেই তাদের মূল লক্ষ্য বানিয়েছে।
স্প্যানিশ ক্লাব লেগানেস থেকে মাত্র এক বছর আগে লাইপজিগে যোগ দেওয়া এই আইভোরিয়ান বিস্ময়ের দিকে নজর ছিল লিভারপুলেরও।
অলরেডরা ১০ কোটি ইউরো (প্রায় ৮৬.৮ মিলিয়ন পাউন্ড) পর্যন্ত অফার সাজিয়েছিল। তবে লাইপজিগের দাবি অন্তত ১৩ কোটি ইউরো। একই সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ থাকা দিওমান্দেকে নতুন চুক্তির প্রস্তাব দিয়ে অন্তত আরো এক মৌসুম রেখে দেওয়ারও পথ খুঁজছে জার্মান ক্লাবটি।
লাইপজিগের স্পোর্টিং ডিরেক্টর মার্সেল শেফার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমাদের স্পষ্ট ইচ্ছা, আগামী মৌসুমেও ইয়ান দিওমান্দে লাইপজিগের জার্সিতেই মাঠে নামবে।’
কোচ হিসেবে হোসে মরিনহো পুনর্দায়িত্ব নেওয়ার পর রিয়াল মাদ্রিদ গ্রীষ্মকালীন দলবদলে বেশ খরচে মেজাজে রয়েছে।
ইতোমধ্যেই তারা দলভুক্ত করেছে বার্নার্ডো সিলভা, ইব্রাহিমা কোনাতে, ডেনজেল ডামফ্রিস ও মার্ক কুকুরেয়াকে। ম্যানচেস্টার সিটির ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার রদ্রিকেও উড়িয়ে আনার প্রক্রিয়া জোরকদমে চলছে।
সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টের হয়ে শেষ ৩২ পর্যন্ত খেলা চার ম্যাচের প্রতিটিতেই আলো ছড়িয়েছেন দিওমান্দে। গত মৌসুমে বুন্দেসলিগায় ৩৩ ম্যাচে ১২ গোল ও ৯টি অ্যাসিস্ট করে দলকে পয়েন্ট তালিকার তিনে থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগ নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।
দিওমান্দে যদি শেষ পর্যন্ত লাইপজিগ ছাড়েন, তবে তা হবে ক্লাবটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিক্রি। এতে ভেঙে যাবে ২০২৫ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়া বেঞ্জামিন সেস্কো (৭৬.৫ মিলিয়ন ইউরো) এবং ২০২৩ সালে ম্যানচেস্টার সিটিতে যাওয়া জোসকো গভার্দিওলের (৯০ মিলিয়ন ইউরো) দলবদলের রেকর্ড।