শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৬ সফর, ১৪৪৮ হিজরি

১৮ মাস বয়সেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল খাগড়াছড়ির শেহেজাদ

এইচ এম প্রফুল্ল, খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ির ছোট্ট শিশু মোহাম্মদ শেহেজাদ বিন খলিল| মাত্র ১৮ মাস বয়সেই পেয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি| কথা বলে ইংরেজিতে, কোন প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই রপ্ত করেছে ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা| শুধু ইংরেজি নয়, এ বয়সে মাতৃভাষা বাংলার পাশাপাশি আয়ত্ব করেছে সূরা ইয়াসিন, আলিফ বা, তা ছা, ABC ও কবিতা আবৃত্তি| এর ফলে অর্জন করেছেন ‘এশিয়া বুক অব রেকর্ডস’-এর মর্যাদাপূর্ণ ‘গ্রান্ড মাস্টার’ স্বীকৃতি| যা শুধু শেহজাদ’র পরিবারের জন্য নয়, বাংলাদেশের জন্যও গর্বের|
২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার মাইনী ভ্যালী মো. ইব্রাহিম খলিল ও তানিয়া আক্তার দম্পত্তির ঘরে জন্ম নেয় মোহাম্মদ শেহেজাদ বিন খলিল| মাত্র ১৮ মাস বয়সেই ইংরেজি ভাষা রপ্ত করে ‘এশিয়া বুক অব রেকর্ডস’-এর মর্যাদাপূর্ণ ‘গ্রান্ড মাস্টার’ স্বীকৃতি অর্জন করেছে| সন্তানের এমন অর্জনে খলিল-তানিয়ার ঘরে আনন্দের বন্যা বাইছে | শুধু ইংরেজি নয়, এ বয়সে মাতৃভাষা বাংলার পাশাপাশি আয়ত্ব করেছে সূরা ইয়াসিন, আলিফ বা, তা ছা, ABC ও কবিতা আবৃত্তি।
শেহজাদের বাবা মো. ইব্রাহিম খলিল জানান, ছেলের বয়স যখন মাত্র ৬ মাস, তখন ছেলের বুদ্ধিমত্তা দেখে খেলাধুলা ও আনন্দের মাধ্যমে তাকে ইংরেজি ভাষার সঙ্গে পরিচিত করানো শুরু হয়| এক সময় কোনো ধরনের চাপ বা মুখস্থবিদ্যা ছাড়া ছবি, খেলনা এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন বস্তুর মাধ্যমে শেখানো হতো নতুন নতুন শব্দ | ধীরে ধীরে শেহজাদ ঘরের প্রায় সব জিনিসের নাম ইংরেজিতে চিনতে শেখে | পাশাপাশি ফল, ফুল, পশু-পাখি, যানবাহন ও বিভিন্ন বস্তুর নামও সাবলীলভাবে বলতে শুরু করে| বাংলা ভাষায় কথা বলা শুরু করে|
সন্তানের এই অসাধারণ ভাষাগত দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মূল্যায়নের জন্য তার বাবা-মা ‘এশিয়া বুক অব রেকর্ডস’-এর কিডস প্রোগ্রামে আবেদন করেন| মূল্যায়নের জন্য ইংরেজিতে কথা বলার ৮টি ভিডিও জমা দেওয়া হয়| এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সাথে যাচাই-বাছাই শেষে বিচারকরা শেহেজাদ-কে ‘গ্রান্ড মাস্টার’ স্বীকৃতিতে ভূষিত করেন| এই অর্জনে আনন্দিত পুরো পরিবার|
তানিয়া আক্তারের প্রত্যাশা তার ছেলে মোহাম্মদ শেহেজাদ বিন খলিল একজন ভালো মানুষ হবে| তিনি বলেন, এটি শুধু আমার সন্তানের সাফল্য নয়, এটি বাংলাদেশেরও সম্মান| ইব্রাহিম খলিল তার ছেলেকে ভবিষ্যতেও ইংরেজি ভাষায় পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে চান| পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগও খুঁজবেন|
মোহাম্মদ শেহেজাদ বিন খলিল আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জনের পরিধি আরো বাড়বে ও মো. ইব্রাহিম খলিল এবং তানিয়া আক্তার দম্পত্তির স্বপ্ন পুরন হবে এমন প্রত্যাশা খাগড়াছড়িবাসীর|