শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৮ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

চিকিৎসকের কণ্ঠস্বর নকল করে ভুয়া ওষুধের বিজ্ঞাপন, গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইউরোলজিস্ট ও কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলামের ছবি, নাম, পরিচয় ও কণ্ঠস্বর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে নকল করে ভুয়া ওষুধের বিজ্ঞাপন ও বিক্রির অভিযোগে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তাররা হলেন তানভির আলম ওরফে রাহাত (২৩) ও মো. নূরনবী ইসলাম ওরফে মানিক (২৩)।

তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত তিনটি মুঠোফোন, একটি সিম কার্ড ও সাতটি ভুয়া ভেষজ ফুড সাপ্লিমেন্ট জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ বোস্তামি ও পাঁচলাইশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। শেরেবাংলা নগর থানায় করা একটি মামলার তদন্তে চক্রটির সন্ধান পাওয়া যায়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তাররা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ফেসবুক আইডি ও পেজ খুলে অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলামের ছবি, নাম ও পরিচয় ব্যবহার করতেন। পরে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসকের ছবি ও কণ্ঠস্বর নকল করে বিভিন্ন ভিডিও তৈরি করা হতো।

ওইসব ভিডিওতে প্রস্টেটের সমস্যা, শারীরিক ও যৌন দুর্বলতাসহ নানা সমস্যার সমাধানের কথা বলে ‘প্রস্টুলিন এফ’ নামের একটি পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়া হতো। চিকিৎসকের পরিচয় ব্যবহার করায় অনেকেই বিজ্ঞাপনগুলো বিশ্বাস করে পণ্যটি কিনতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, চিকিৎসকের ছবি ও কণ্ঠস্বর দেখে অনেক মানুষ পণ্যটিকে অনুমোদিত ও কার্যকর মনে করে কিনে প্রতারিত হচ্ছিলেন। একই সঙ্গে অননুমোদিত বা ভেজাল পণ্য ব্যবহারের কারণে ক্রেতাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও পড়তে হচ্ছিল।

নিজের ছবি, পরিচয় ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।

তদন্তের একপর্যায়ে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে তানভির ও নূরনবীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিয়াজ মেহেদী জানান, গ্রেপ্তারের সময় জব্দ করা ডিজিটাল ডিভাইস প্রাথমিকভাবে যাচাই করে ভুয়া ফেসবুক পেজসহ প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। তদন্তে এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

গ্রেপ্তার দুজনের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরে তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।