শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৮ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৯ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

‘গতিদানব’ তকমা নিয়েও আপত্তি নেই সুজনের

স্পোর্টস ডেস্ক : সমালোচনা ও ট্রল; ক্রিকেটের সঙ্গে যেন শব্দ দুটি অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজনও এর বাইরে নন।

বিশেষ করে খেলোয়াড়ি জীবনে তার বোলিংয়ের গতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য হয়ে থাকে। তবে এসব নিয়ে মোটেও বিচলিত নন সুজন।

নিজের সময়ের বোলিংয়ের প্রসঙ্গ টেনে সুজন জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ে তিনি ১৩৫ থেকে ১৩৭ কিলোমিটার গতিতে বল করেছেন। তাই তাকে নিয়ে ‘গতিদানব’ বলে ব্যঙ্গ করলেও সেটিকে নেতিবাচকভাবে দেখেন না তিনি।

এক গণমাধ্যমকে সুজন বলেন, ‘আমার তো ফেসবুক নেই। মাঝে মাঝে ইউটিউবে হয়ত দেখতাম।

ফ্রেন্ডরা আমার সাথে মজা নিত। এই তোর নামে এটা-ওটা বলছে। বলতাম, তোরা মজা নে। আমাকে বলে গতিদানব। আমি বলেছি, আমি তো গতিদানবই! সমস্যা কোথায়?’
নিজের বোলিংয়ের গতি নিয়ে সাবেক এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘আমি ১৩৭ কিমি গতিতে বল করেছি। ঐ সময় বাংলাদেশের খুব কম ছেলেই ১৩৭ গতিতে বল করেছে। আমার সর্বোচ্চ গতি ছিল ১৩৫-১৩৭। যারা আমাকে ট্রল করে তারা মনে হয় অনেক পরে আমার খেলা দেখেছে।’

ক্যারিয়ারের শেষ দিকে অবশ্য বোলিংয়ের ধরন বদলে ফেলেছিলেন সুজন। গতি কমিয়ে কাটার ও স্লোয়ারে বেশি মনোযোগ দেওয়ার কারণে তার বলের গতি আগের মতো ছিল না বলে জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে সাবেক শ্রীলঙ্কান পেসার চামিন্দা ভাসের কথাও টানেন সুজন।

তিনি বলেন, ‘যখন পেস কমিয়ে কাটার-স্লোয়ারে মনোযোগী হয়েছি, স্লোয়ার মারতাম তখন বেশি। চামিন্দা ভাস ১৪০ এ আবার ১১৫ গতিতেও তো বল করেছে। এগুলো যারা বলে, রাগ করার কিছু নেই আসলে। কথায় আছে না, রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। আমি রাগ করে কী করব?’

সুজনের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রিকেট নিয়ে মন্তব্য করা অনেকেই খেলাটিকে গভীরভাবে বোঝেন না। তাই সেসব মন্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে নিজের মানসিক শান্তি নষ্ট করতে চান না তিনি।

বাবার একটি কথা স্মরণ করে সুজন বলেন, ‘আমার বাবা একটা কথা বলতেন- জ্যাক অফ অল ট্রেডস মাস্টার অফ নান। যারা বলে, তারা ওটাই (সর্বঘটে কাঁঠালিকলা)। ক্রিকেট এত বুঝে না, জ্ঞান কম। শুধু জিততে চায়। গভীরে জানে না। ফেসবুকে তো অনেক লোকই কমেন্ট করে এখন। যা খুশি লিখতে পারেন, গালি দিতে পারেন। হু কেয়ার্স? আমার পেটের ভাত আমাকেই জোগাড় করতে হয়।’