শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৮ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৯ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

ভাষা নেই, হাসি দিয়েই জীবনসংগ্রামে টিকে আছে ফিরোজ

মুক্তবাণী রিপোর্ট : শিশুকাল থেকেই রাজধানীর রামপুরা এলাকায় বেড়ে ওঠা ফিরোজের বয়স এখন ১৯ থেকে ২০ বছর। বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেড়ে ওঠা এই তরুণের জীবন কাটে ভাঙারি কুড়িয়ে।
কুড়িয়ে পাওয়া জিনিসপত্র একটি জারে রেখে দড়ির সাহায্যে সেটি টেনে টেনে খুড়িয়ে খুড়িয়ে নিয়ে যান ভাঙারি দোকানে। এসব জিনিস বিক্রি করে পাওয়া সামান্য অর্থেই মেটানোর চেষ্টা করেন ক্ষুধা।

জীবনের কাছে ফিরোজের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব খুবই সামান্য। বড় কোনো চাহিদা নেই তার।
দিন শেষে দুমুঠো খাবারের ব্যবস্থা হলেই যেন তার চলে যায়।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি।
প্রায় ৮০ শতাংশ কথা বলতে না পারলেও মুখের হাসিটাই যেন ফিরোজের সবচেয়ে বড় ভাষা। পথে যাকেই দেখেন, তাকেই মিষ্টি হাসি দিয়ে অভিবাদন জানান তিনি।

প্রতিবন্ধকতা নয়, বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছাই যেন ফিরোজের পরিচয়। প্রতিদিনের পরিশ্রম আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন, জীবনে টিকে থাকতে পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।

রামপুরা ওয়াপদা রোড এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই দরিদ্র এক খালার কাছে বড় হয়েছেন ফিরোজ। এখনো তিনি খালার কাছেই থাকেন। তার মা-বাবা আছেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন না এলাকার মানুষজন। অনেকের ধারণা, হয়তো তার মা-বাবা কেউই নেই।

তবে মা-বাবা না থাকলেও এলাকার মানুষই যেন ফিরোজের আপনজন। সবাই তাকে চেনেন, ভালোবাসেন। বিশেষ করে এলাকার দোকানদারদের কাছে ফিরোজ খুবই পরিচিত মুখ।

সেই ভালোবাসা থেকেই কেউ ফিরোজকে ডেকে দোকানের ময়লা ফেলে দিতে বলেন, কেউ আবার ঝাড়ু দেওয়ার কাজ দেন। এসব ছোটখাটো কাজের বিনিময়ে কেউ তাকে ২০ টাকা, কেউ ৫০ টাকা দেন। সামান্য এই উপার্জনই যেন ফিরোজের মুখে ফুটিয়ে তোলে তৃপ্তির হাসি।

একজন বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণের প্রতিদিনের এই ছোট ছোট সংগ্রাম, পরিশ্রম আর বেঁচে থাকার চেষ্টা আশপাশের মানুষকেও নাড়া দেয়।

ফিরোজকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, ‘তোমার বাবা-মা কই?’জড়ানো কণ্ঠে ফিরোজের সংক্ষিপ্ত উত্তর -‘নাই।’

তার সেই ছোট্ট উত্তরের মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে দীর্ঘ এক জীবনের না বলা গল্প।