শাহানাজ পাটোয়ারী, গাজীপুর : গাজীপুর মহানগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট দেওড়া অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি পদে মো. খাইরুল আলম বিএসসির মনোনয়নকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পৃক্ততা, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা এবং একই বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব আগে পালন করার বিষয়টি সামনে এনে তাকে নিয়ে আলোচনা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, খাইরুল আলম দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষা, ধর্মীয় ও সমবায়ী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার ক্ষেত্রে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে আসতে পারে বলে তারা মনে করছেন। কেননা
এর আগে ছোট দেওড়া অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন খাইরুল আলম। সেই অভিজ্ঞতার কারণে বিদ্যালয়ের পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে তার পূর্বপরিচিতি রয়েছে বলে স্থানীয়দের অনেকে উল্লেখ করেছেন। দেখা গেছে সংসদ সদস্যের চিঠিতেও খাইরুল আলমের নাম।
গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনির একটি চিঠিকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হলে ওই চিঠিতে ছোট দেওড়া অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং/গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়ন প্রসঙ্গে মো. খাইরুল আলমের নাম উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে তাকে সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী হিসেবে উল্লেখ করে সভাপতি পদে অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে খাইরুল আলম বিএসসিকে সাবেক স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত কাউন্সিলর ও সমাজসেবক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। তার পরিচিতিতে সাবেক গাজীপুর মহানগর বিএনপির সদস্য, সাবেক গাজীপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ২৯ নম্বর ওয়ার্ড পৌর বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের তথ্যও উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও সমবায়ী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথাও জানা যায়। তিনি সোবহান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, যোগীতলার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি সামান্তপুর পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ, বায়তুল ফজল মোল্লাবাড়ী জামে মসজিদ, ছোট দেওড়া নবারুণ সংঘ, জামালুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা, ট্যুয়েন্টি ফ্রেন্ডস সোসাইটি এবং হিলফুল ফজল সমবায় সমিতির সঙ্গে যুক্ত থাকার তথ্য রয়েছে।
পরিচিতি অনুযায়ী, তিনি চৌরাস্তা দোকান মালিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক এবং ডায়াবেটিস সমিতি গাজীপুরের কার্যকরী সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
বিদ্যালয় নিয়ে প্রত্যাশা এলাকাবাসীর স্থানীয়দের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয়ের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। খাইরুল আলমের আগের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাকেই সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেবে, তার নেতৃত্বে ছোট দেওড়া অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, শৃঙ্খলা, পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও এগিয়ে যাবে।
এখন খাইরুল আলমের মনোনয়ন নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন বিদ্যালয়টির শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।