খুলনা প্রতিনিধি : খুলনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও ৬৯ জন বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মেধাক্রমে ওপরের দিকে থাকা কয়েকজন প্রার্থীও নিয়োগ না পাওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বাদ পড়া প্রার্থীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার পরও তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বলছে, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত বাদ পড়ার সংখ্যা এত বেশি নাও থাকতে পারে।
খুলনার তেরখাদা উপজেলার মেধাক্রমে চতুর্থ হাওয়া বেগম বলেন, ২০২৩ সালে আমার স্বামী মারা গেছেন। আমি একজন বিধবা নারী। পাঁচ বছরের একটি সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্ট করে টিউশনি করিয়ে জীবিকা চালাই। সন্তানের পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের পড়াশোনাও চালিয়ে গেছি। এত কষ্ট করে পড়াশোনা করে চাকরিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও যদি চাকরি না পাই, তাহলে আমার আর কোনো পথ থাকবে না। আমি একজন বিধবা ও মেয়ে মানুষ রাজনীতি আমি কী বুঝি? আমি বিধবা মানুষ, আমার সন্তান নিয়ে কই যাব?
ডুমুরিয়ার মেধাক্রমে চতুর্থ সুদীপ্ত মণ্ডল বলেন, আমরা যারা সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও বাদ পড়েছি, কেন বাদ পড়েছি তা জানি না। আমার রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করা হয়েছিল। সেখানে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। দুই-একজন ছাড়া বাকিদের বাদ দেওয়ার কারণ সম্পর্কেও কোনো কিছু বলা হচ্ছে না।
তেরখাদা উপজেলার মেধাক্রমে ষষ্ঠ মো. মুকুল আহমেদ বলেন, ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আমাদের চূড়ান্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ভাইভাতে উত্তীর্ণ হয়ে প্রায় ১৩ হাজার প্রার্থীর মধ্যে আমি মেধাক্রমে ষষ্ঠ অবস্থানে ছিলাম। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ডিপিইও কার্যালয়ে জমা দিই এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্টও দিই। স্থায়ী ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য-প্রমাণ দেওয়ার পরও কোনো অদৃশ্য কারণে আমি বাদ পড়েছি, যার কারণ আমি নিজেও জানি না। ডিপিইও কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা পাইনি। এতে আমি মানসিকভাবে খুব বিপর্যস্ত।
তিনি আরও বলেন, একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর চাকরির ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বাধা থাকা উচিত নয়। সাধারণ মানুষ যে কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করতেই পারে। কিন্তু সে কারণে একজনের চাকরি হবে না রাষ্ট্রের এমন কোনো ব্যবস্থা থাকা উচিত বলে আমি মনে করি না।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনা জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা বলেন, কোনো অপরাধমূলক কাজের রেকর্ড থাকলে তা বিবেচনা করা উচিত। কিন্তু কেবল ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের কারণে কাউকে বাদ দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি যোগ্য ও দক্ষ জনবল থেকে রাষ্ট্রকে বঞ্চিত করে। ছাত্র-জনতার এত রক্তের পরও এ সংস্কৃতি চালু থাকা লজ্জাজনক।
এ বিষয়ে খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম বলেন, খুলনা জেলায় যে ৬৯ জন প্রার্থী নিয়োগ পাননি, এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা এত বেশি থাকবে না।