শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১০ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

হবিগঞ্জ জেলার সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫

ধর্ম ডেস্ক

৫ মার্চ ২০২৫, ১৪:১৫

দেশের প্রত্যেক জেলার মতো হবিগঞ্জ জেলার মুসলমানরাও গুরুত্বের সঙ্গে পবিত্র রমজান মাসে রোজা পালন করেন। পুরো এক মাস রোজা পালনের মাধ্যমে তারা আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করেন। 

ঠিকমতো রোজা পালনের জন্য অন্যান্য জেলার মতো হবিগঞ্জ জেলার মানুষেরাও সঠিক সময়ে সাহরি ও ইফতার করেন। এই মাসে সঠিক সময়ে সাহরি ও ইফতার গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ধর্মীয় বিধান মেনে রোজা পালনের জন্য সহায়ক। 

সময় মতো ইফতার ও সাহরি খাওয়ার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যতদিন মানুষ তাড়াতাড়ি ইফতার করবে ততদিন দ্বীন ইসলাম বিজয়ী থাকবে। কেননা, ইহুদি ও নাসারাদের অভ্যাস হলো ইফতার দেরিতে করা। (আবু দাউদ)

হবিগঞ্জ জেলার সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫

রমজানতারিখসেহরিইফতার
২ মার্চ ২০২৫০৪:৫৬০৬:০১
৩ মার্চ ২০২৫০৪:৫৫০৬:০১
৪ মার্চ ২০২৫০৪:৫৫০৬:০২
৫ মার্চ ২০২৫০৪:৫৪০৬:০২
৬ মার্চ ২০২৫০৪:৫৩০৬:০৩
৭ মার্চ ২০২৫০৪:৫২০৬:০৩
৮ মার্চ ২০২৫০৪:৫১০৬:০৪
৯ মার্চ ২০২৫০৪:৫০০৬:০৪
১০ মার্চ ২০২৫০৪:৪৯০৬:০৫
১০১১ মার্চ ২০২৫০৪:৪৮০৬:০৫
১১১২ মার্চ ২০২৫০৪:৪৭০৬:০৬
১২১৩ মার্চ ২০২৫০৪:৪৬০৬:০৬
১৩১৪ মার্চ ২০২৫০৪:৪৫০৬:০৬
১৪১৫ মার্চ ২০২৫০৪:৪৪০৬:০৭
১৫১৬ মার্চ ২০২৫০৪:৪৩০৬:০৭
১৬১৭ মার্চ ২০২৫০৪:৪২০৬:০৭
১৭১৮ মার্চ ২০২৫০৪:৪১০৬:০৮
১৮১৯ মার্চ ২০২৫০৪:৪০০৬:০৮
১৯২০ মার্চ ২০২৫০৪:৩৯০৬:০৯
২০২১ মার্চ ২০২৫০৪:৩৮০৬:০৯
২১২২ মার্চ ২০২৫০৪:৩৭০৬:১০
২২২৩ মার্চ ২০২৫০৪:৩৫০৬:১০
২৩২৪ মার্চ ২০২৫০৪:৩৪০৬:১০
২৪২৫ মার্চ ২০২৫০৪:৩৩০৬:১১
২৫২৬ মার্চ ২০২৫০৪:৩২০৬:১১
২৬২৭ মার্চ ২০২৫০৪:৩১০৬:১২
২৭২৮ মার্চ ২০২৫০৪:২৯০৬:১২
২৮২৯ মার্চ ২০২৫০৪:২৮০৬:১৩
২৯৩০ মার্চ ২০২৫০৪:২৭০৬:১৩
৩০৩১ মার্চ ২০২৫০৪:২৫০৬:১৪

সূত্র : ইসলামিক ফাউন্ডেশন

  • ফ্যাসিস্ট আ.লীগের মতোই হত্যার পথ বেছে নিয়েছে বিএনপি : আবদুল হালিম

    নিজস্ব প্রতিবেদক : ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মতোই বিএনপি হত্যার পথ বেছে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম।

    তিনি বলেন, ‘বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাব জনগণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে দেবে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগকে যেভাবে বিদায় নিতে হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি এ দেশ থেকে সন্ত্রাসীদের সেভাবেই বিদায় নিতে হবে।’

    দেশব্যাপী নারীর প্রতি সহিংসতা ও বিএনপি কর্মীদের বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে বিএনপি প্রমাণ করেছে যে তারা নির্বাচন বানচাল করতে চায়। প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রার্থীদের নিরাপত্তা দিতে না পারা উদ্বেগের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের নীরবতায় শেরপুর-৩ আসনের ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে তারা। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করতে হবে। তাদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’

    জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, ‘বিএনপি রাজনীতিতে একা হয়ে দিশেহারা। বর্তমানে রাজনীতির মাঠে দুটি পক্ষ; একদিকে ১১ দলীয় জোট, অপরদিকে একা বিএনপি। জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের খুন করে এই সংগঠনকে দমিয়ে রাখা যাবে না। ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রতিটি লাশের হিসাব জাতি ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে বুঝে নেবে।’

    ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসেন হেলাল বলেন, ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে হামলার জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে। নির্বাচনী আইনে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের বিধান থাকলেও কমিশন এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

    ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন– ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ড. আবদুল মান্নান, ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শামছুর রহমান এবং ঢাকা-৪ আসনের প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। এ সময় মহানগর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন খান, আবদুস সালাম, কামরুল আহসান হাসানসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    সভাপতির বক্তব্যে ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, বিএনপি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের পরিবর্তে ‘খুনের কার্ড’ নিয়ে মাঠে নেমেছে। তিনি বিএনপিকে সন্ত্রাসের রাজনীতি পরিহার করার আহ্বান জানান।

    সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে বিজয়নগর ও কাকরাইল হয়ে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

  • একই পরিবারের ১১ জনের ফাঁসি কার্যকর করল চীন

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত শহর লাউককাইং দাপিয়ে বেড়ানো কুখ্যাত ‘মিং’ পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড দ্রুততার সঙ্গে কার্যকর করেছে চীন। -সূত্র: বিবিসি।

    গত সেপ্টেম্বরে আদালতের রায়ের পর এই সাজা কার্যকর করা হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, চীন বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলেও মিং পরিবারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ ও নজিরবিহীন।

    ২০০৯ সাল থেকে মিয়ানমারের শান রাজ্যের রিমোট বর্ডার টাউন লাউককাইং শাসন করে আসছিল মিং, বাউ, ওয়েই এবং লিউ নামের চারটি প্রভাবশালী পরিবার। বর্তমান সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের আশীর্বাদে তারা ক্ষমতায় আসে।

    একসময় আফিম ও মেথামফেটামিন উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও পরবর্তীতে তারা ক্যাসিনো এবং অনলাইন প্রতারণার (অনলাইন স্ক্যাম) এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। তাদের এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পরোক্ষ সমর্থন ছিল এবং পরিবারের অনেক সদস্য জান্তা সমর্থিত দলের হয়ে নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন।

    লাউককাইংয়ের এই স্ক্যাম সেন্টারগুলো এশিয়ার অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে বেশি নৃশংস ছিল। বিশেষ করে মিং পরিবারের পরিচালিত ‘ক্রাউচিং টাইগার ভিলা’ ছিল যমপুরীর মতো। হাজার হাজার চীনা নাগরিককে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে বন্দি করে রাখা হতো এবং তাদের দিয়ে ‘পিগ-বাচারিং’ এর মতো ভয়াবহ অনলাইন জালিয়াতি করানো হতো। সেখানে শারীরিক নির্যাতন ছিল নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সেখান থেকে পালানোর চেষ্টার সময় রক্ষীরা বেশ কয়েকজন চীনা নাগরিককে হত্যা করলে বেইজিং কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।

    মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের সুযোগে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এমএনডিএএ লাউককাইং দখল করে নেয় এবং এই চার পরিবারের প্রধানদের আটক করে চীনের পুলিশের হাতে তুলে দেয়। মিং পরিবারের প্রধান মিং সুয়েচ্যাং ধরা পড়ার পর আত্মহত্যা করেন বলে জানা যায়।

    জিজ্ঞাসাবাদে এই পরিবারের এক সদস্য স্বীকার করেছেন যে নিজের ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য তিনি র্যান্ডমলি বা উদ্দেশ্যহীনভাবে একজনকে হত্যা করেছিলেন। চীন এই নৃশংসতার বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে এনেছে যাতে তাদের এই কঠোর শাস্তিকে বিশ্ববাসীর কাছে যৌক্তিক হিসেবে তুলে ধরা যায়।

    মিং পরিবারের ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলেও অন্যান্য পরিবারের বিচার এখনো চলমান। বাউ পরিবারের পাঁচজন বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় আছেন এবং ওয়েই ও লিউ পরিবারের বিচারকাজ এখনো শেষ হয়নি। শুধু মিয়ানমার নয়, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া থেকেও অনলাইন স্ক্যাম সাম্রাজ্যের হোতাদের হস্তান্তরের জন্য চাপ দিচ্ছে চীন।

    তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় বড় কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে গেলেও এই অনলাইন প্রতারণার ব্যবসা এখন মিয়ানমারের নতুন নতুন দুর্গম এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে, যা দমানো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের সহ-সভাপতি বাংলাদেশ

    মুক্তবাণী রিপোর্ট : ২০২৬ সালের জন্য জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের (পিবিসি) সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পিবিসির পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট ব্যুরো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

    কমিশনের ২০তম অধিবেশনের প্রথম সভায় মরক্কো সভাপতি এবং বাংলাদেশ, জার্মানি, ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়া সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়।

    শান্তি বিনির্মাণ কমিশন একটি আন্তঃসরকারি উপদেষ্টা সংস্থা, যা সংঘাতপূর্ণ দেশগুলোতে শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করে থাকে।

    সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ এবং জাতিসংঘে শীর্ষ সৈন্য ও অর্থ প্রদানকারী দেশগুলোর মধ্য থেকে নির্বাচিত ৩১টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে এই কমিশন গঠিত।

    ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদেশ এই কমিশনের সদস্য। এর আগে ২০১২ ও ২০২২ সালে বাংলাদেশ কমিশনের সভাপতি এবং ২০১৩ ও ২০২৩ সালে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।

    এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পিবিসির ২০তম অধিবেশনের প্রথম সভায় সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। এ উপলক্ষে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি এবং মহাসচিবের পক্ষে তার চিফ অব স্টাফ উপস্থিত ছিলেন এবং পিসবিল্ডিং কমিশনের (পিবিসি) ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তব্য দেন।

    এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের জন্য বাংলাদেশের ওপর আস্থা রাখায় কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানায়। একইসঙ্গে জাতিসংঘের শান্তি বিনির্মাণ প্রচেষ্টা ও কার্যক্রমের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশ।

  • এই নির্বাচন দিকনির্দেশনা দেবে আগামীতে দেশ কোন দিকে চলবে: তারেক রহমান

    বগুড়া প্রতিনিধি : ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এই নির্বাচন নিশ্চিত করবে দেশের মানুষের জবাবদিহিমূলক সরকার হবে কি হবে না। এই নির্বাচন দিকনির্দেশনা দেবে আগামীতে দেশ কোন দিকে পরিচালিত হবে। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে দেশকে নিতে চাইলে অবশ্যই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রবর্তন করতে হবে।

    বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, দেশে গত ১৫ বছর কোনো উন্নয়ন হয়নি; সারা দেশ উন্নয়নবঞ্চিত ছিল। শুধু তথাকথিত মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। এ দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরতে হবে।

    তিনি বলেন, দুর্নীতি দূর করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। আর দেশকে গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

    বিএনপির বিগত শাসনামলের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু বগুড়া নয়; সমগ্র বাংলাদেশের কথা চিন্তা করতে হবে। সমগ্র দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে শুধু বগুড়াবাসীর দাবির বিষয়ে চিন্তা করলে হবে না, গোটা দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। কারণ, অন্য কোথাও বঞ্চিত না করে ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। চাকরিসহ সব কিছু হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে। গত ১৫ বছরে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব সেক্টর ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

    বক্তব্য শেষে তারেক রহমান বগুড়ার সাতটি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং সবার কাছে ভোট প্রার্থনা ও দোয়া কামনা করেন।

    এর আগে রাজশাহী ও নওগাঁয় নির্বাচনি জনসভা শেষে রাতে স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠের নির্বাচনি জনসভার মঞ্চে আসেন। এ সময় তিনি হাত নেড়ে উপস্থিত জনগণকে শুভেচ্ছা জানান। তখন জনসভা ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। জনসমুদ্রের হাজার হাজার নারী-পুরুষ তাদের স্বাগত জানান।

    প্রথমেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। বিএনপি চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের এ জনসভা নিয়ে নেতাকর্মী থেকে সাধারণ মানুষের মাঝে ছিল ব্যাপক উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাস। আর নিজের নির্বাচনি এলাকায় তারেক রহমানের এটিই প্রথম জনসভা। বিকাল থেকে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে মিছিলের পর মিছিল শহরকে মিছিলের নগরীতে পরিণত করে। জনসভা ও আশপাশের এলাকায় ছিল ব্যানার-ফেস্টুন।

    বেগম খালেদা জিয়ার বগুড়া-৬ (সদর) আসনে তারেক রহমান প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছেন। তার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে নেতাকর্মী ও সমর্থকসহ সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও উৎসাহের মাত্রা বেশি। মধ্যরাত পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক নারী নেতাকর্মী ও সমর্থক জনসভাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

    বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সহিদ উন নবী সালাম ও কেএম খায়রুল বাশারের সঞ্চালনায় নির্বাচনী জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন- বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চন্দন, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন চাঁন, আলী আজগর তালুকদার হেনা, মাহবুবর রহমান হারেজ, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবুর রহমান, আহসানুল তৈয়ব জাকির, তৌহিদুল আলম মামুন, অ্যাডভোকেট এ কে এম সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের প্রার্থী মোশারফ হোসেন, বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের প্রার্থী মীর শাহে আলম, বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনের প্রার্থী আবদুল মহিত তালুকদার, বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের প্রার্থী মোরশেদ মিল্টন প্রমুখ।

  • জুলাই সনদের মূল কথা মানুষের অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া : আলী রীয়াজ

    নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জুলাই সনদের মূল কথা হলো মানুষের অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া। যে অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। যে অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ২০২৪-এ গণঅভ্যুত্থান রচিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘অনেক রক্তাক্ত পথ পাড়ি দিয়ে ৫৪ বছর পর আবার মানুষের অধিকার বুঝিয়ে দেওয়ার সুযোগ এসেছে। আমরা হেলায় এ সুযোগ হারাবো না।’’

    গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণে বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

    বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর বাসাবো ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার মিলনায়তনে বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এ মতবিনিময়ের আয়োজন করে।

    আলী রীয়াজ বলেন, ‘‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ-কে জয়যুক্ত করে একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবো। জুলাই সনদ প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করবে। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করবে— যেখানে ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্য রাষ্ট্র ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির পার্থক্য করবে না। এ সনদ নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করবে।’’

    আলী রীয়াজ বলেন, ‘‘ফ্যসিবাদের নিষ্পেষণে জর্জরিত রাষ্ট্রকে উদ্ধার করতে প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে ব্যাপক সংস্কার করতে হবে। আর সেই সংস্কারের লক্ষ্যেই আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ বলা সময়ের দাবি।’’

    তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু এতদিন সেই জনগণকেই বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বিবেকের তাড়নায় গণভোটে অংশগ্রহণ জরুরি যেন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ অতীতের মতো না হয়। মনে রাখবেন, গণভোটের জয়ের মাধ্যমে আপনার কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন সম্ভব।

    রাষ্ট্রপতির নিয়োগ ও দায়িত্ব সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টার এ বিশেষ সহকারী বলেন, ‘‘বিগত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই সব হতো। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্য কোনও সিদ্ধান্ত এককভাবে গ্রহণ করতে পারেন না। অথচ বলা হয়, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়, বিচার ব্যবস্থায় বিচারপতি নিয়োগ এসব রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পদায়ন করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এগুলো তৎকালীন সরকারপ্রধানের ইচ্ছা অনুসারেই হয়ে থাকে।’’

    সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে ড. রীয়াজ বলেন, ‘‘নিজ দলের এমপিদের মুখে স্কচটেপ এটে দেওয়ার মতো। এ ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিকাশে বিশাল বাধা। এ ব্যবস্থার উত্তরণে সংস্কার প্রস্তাবে অর্থবিল এবং আস্থা ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে নিজ নিজ দলের অনুগত থাকবে, অন্য বিষয়ে এমপিরা স্বাধীন মতামত প্রদান করতে পারবেন এমন প্রস্তাব করা হয়েছে।’’

    বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, ‘‘আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল উদ্দেশ্য সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের মতো বিষয় যেন সম্মানের সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে পারি, তা নিশ্চিত করতে হবে।’’

    তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা এমন একটা সমাজ চাই, যে সমাজে আমার সন্তানের পরিচয় নির্ধারণ হবে— তার যোগ্যতার ওপর তার অর্জিত জ্ঞান ও প্রচেষ্টার ওপর। গণভোটে হ্যাঁ দিলে সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকবে না। আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস থাকবে না বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যা বোগাস।’’

    অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

    বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ভবেশ চাকমার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তৃতা করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব জয়দত্ত বড়ুয়া, খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি পিউস কস্তা প্রমুখ।