মুক্তবাণী অনলাইন : ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী বৃহস্পতিবার দেশে ফিরছেন। প্রায় ১৭ বছরের বেশি সময় পর এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজধানীতে বিরাট জনসমাগমের প্রস্তুতি চলছে। দলটির প্রত্যাশা, সংবর্ধনা উপলক্ষে ঢাকায় প্রায় ৫০ লাখ মানুষের সমাবেশ ঘটবে।
মঙ্গলবার থেকেই দেশের ৬৩ জেলার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন তারেক রহমান। সেখান থেকে তিনি সরাসরি কুড়িল বিশ্বরোডসংলগ্ন তিনশ ফিট এলাকায় আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এরপর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন এবং পরে গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসায় উঠবেন।
তারেক রহমানের সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও দেশে ফিরবেন। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খালেদা জিয়াকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন জাইমা রহমান। তিনি লিখেছেন, “অনেক বছর পর দেশে ফিরছি। দেশে ফেরা মানে আবেগ আর অনুভূতির এক অনন্য সংমিশ্রণ। দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি ‘দাদু’র পাশে থাকতে চাই।”
বিশেষ কার্যক্রম ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা বিমানবন্দরে যাত্রী ছাড়া অন্য দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিমানবন্দর ও আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। যাত্রীদের হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রাজধানীর তিনশ ফিট এলাকায় বিশাল সংবর্ধনা মঞ্চ তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। মঙ্গলবার দুপুরে অভ্যর্থনা কমিটির সদস্য সচিব ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছরের পর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান। তার সংবর্ধনায় মানুষের মহামিলন হবে। অর্ধকোটি মানুষের উপস্থিতি হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
রিজভী আহমেদ জানান, সরকারের পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “জনসমাগম যত বড়ই হোক, সবাইকে শৃঙ্খলার সঙ্গে অবস্থান করতে হবে। রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে প্রিয় নেতাকে শুভেচ্ছা জানাবেন। কোনো বিশৃঙ্খলা বা অরাজকতা করা যাবে না।”
তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে রাজধানীজুড়ে ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে। নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ঝুলানো এসব ব্যানারে বড় অক্ষরে লেখা হয়েছে—‘লিডার আসছে’, ‘হে বিজয়ী বীর, তোমাকে স্বাগত’। রাজধানীর পল্টন, মৎস্যভবন মোড়, কাকরাইল, মোহাম্মদপুর, কাওরান বাজার, মহাখালী, গুলশান, উত্তরা, বনানী ও বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় এই চিত্র দেখা গেছে।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীতে স্বাগত মিছিল করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নেতৃত্ব দেন এই মিছিলে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ মোড় হয়ে মৎস্যভবনে গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।