নিজস্ব প্রতিবেদক : যানবাহন সংকট ও মনোবলের ঘাটতি নিয়েই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব পালনে মাঠে নামছে পুলিশ। সূত্র জানিয়েছে, গত অর্থবছরে চার শতাধিক নতুন যানবাহন কেনা হলেও এখনো বিভিন্ন ধরনের ৬ হাজারের বেশি যানবাহন, নৌযান ও অন্যান্য লজিস্টিক ঘাটতি রয়ে গেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর হারানো মনোবলও পুরোপুরি ফিরে পায়নি পুলিশ।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, কিছু যানবাহন ও লজিস্টিক ইতিমধ্যে কেনা হয়েছে। বাকি ঘাটতিগুলো নির্বাচনের আগে পূরণ হয়ে যাবে বলে তারা আশাবাদী। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, নির্বাচন সফল ও সুন্দর করার সম্পূর্ণ সক্ষমতা পুলিশ বাহিনীর রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী সহিংসতায় পুলিশের ৫২৬টি যানবাহন ভস্মীভূত ও মেরামত অযোগ্য হয়ে পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে ২৪১টি পিকআপ, ১৩টি অপারেশনাল জিপ, ৫৫টি বিশেষ যান এবং ২১৭টি মোটরসাইকেল। সংকট মোকাবিলায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পুলিশ ৪১৮টি নতুন যানবাহন কিনেছে। তবে ভস্মীভূত যানের বিপরীতে ঘাটতি রয়ে গেছে ১০৮টি।
গত অর্থবছরে চার শতাধিক নতুন যানবাহন কেনার পর গত নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মোট যানবাহনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৯টি। এর মধ্যে পিকআপ ২ হাজার ৮৫০টি, অপারেশনাল জিপ ৫৩৯টি, বিশেষ যান ৩৩১টি এবং মোটরসাইকেল ৬ হাজার ২৮৯টি। প্রয়োজনের তুলনায় ঘাটতি রয়েছে ৬ হাজার ১৬০টি যানবাহনের। এর মধ্যে ৫০৭টি পিকআপ, ৪৪৫টি অপারেশনাল জিপ, ১ হাজার ৭০৭টি বিশেষ যান এবং ৩ হাজার ৫০১টি মোটরসাইকেল।
গত বছরের ১২ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিটি পুলিশের ১ হাজার ৩৮৫টি যানবাহন একযোগে অকেজো ঘোষণা করে। এর মধ্যে রয়েছে ২০৩টি পিকআপ, ৭৫টি অপারেশনাল জিপ, ১৮৭টি বিশেষ যান এবং ৯২০টি মোটরসাইকেল।
পুলিশের কাছে বর্তমানে ২৭৪টি নৌযান রয়েছে। এর মধ্যে ১১২টি দেশি নৌকা, ১৩৫টি স্পিড বোট ও ১১টি পেট্রল বোট। তবে ঘাটতি রয়েছে ১৯৯টির। এর মধ্যে ৪৪টি দেশি নৌকা, ৪৬টি স্পিড বোট, ১৩টি পেট্রল বোট ও ১০টি উদ্ধারকারী বোট। গত অর্থবছরে ৪টি স্পিড বোট ও ৩টি পেট্রল বোট কেনা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে সারা দেশে থানাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর, লুট, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশ সদস্যদের হতাহতের ঘটনায় ভেঙে যাওয়া মনোবল এখনো পুরোপুরি ফিরে পাননি সদস্যরা। নির্বাচনের বাকি মাত্র ৪০ দিন থাকলেও তারা দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আইজিপি বাহারুল আলম গত ২৩ ডিসেম্বর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নির্বাচন কমিশনকে বলেন, পুলিশ বাহিনী নির্বাচন সফল ও সুন্দর করতে পারবে। এ ব্যাপারে পুলিশের ওপর আস্থা রাখতে পারে ইসি।
সূত্র জানিয়েছে, যানবাহন ও সরঞ্জাম সংকটের মধ্যেই নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ মাঠপর্যায়ের সদস্যরা। সরকারি ভাতা বা বরাদ্দ ছাড়াই নির্বাচনী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তারা।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের পাঁচ শতাধিক যানবাহন ভস্মীভূত ও মেরামতের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এ ছাড়া গত বছর আরও প্রায় ১ হাজার ৪০০ যানবাহনকে অকেজো ঘোষণা করা হয়। তবে এরই মধ্যে বেশ কিছু যানবাহন ও লজিস্টিক কেনা হয়েছে। বাকি যেসব ঘাটতি রয়েছে নির্বাচনের আগে সেটাও পূরণ করা যাবে বলে আশা করছি।”