নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জি এম কাদের), জাতীয় পার্টির (একাংশ) আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) প্রার্থীদের অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
ভোলার বাসিন্দা ও জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ গত ৪ জানুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন দায়ের করেন। রিটকারীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির জানান, রিটে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
জাতীয় পার্টির জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন অংশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৪৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। গত ২৬ ডিসেম্বর গুলশানের লেকশোর হোটেলে মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন। অপরদিকে, জাতীয় পার্টি (আনিসুল ইসলাম) ও জেপির নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করা নতুন রাজনৈতিক জোট জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ১১৯ আসনে ১৩১ জন প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এর আগে ২৩ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
রিটকারীর আইনজীবী শাহরিয়ার কবির বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় মহাজোট জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই জোটে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ/ইনু), জাতীয় পার্টি (এরশাদ), জাতীয় পার্টি (মঞ্জু), তরিকত ফেডারেশনসহ ১৪টি দল ছিল। প্রতিবেদনে তাদেরও অপরাধে সম্পৃক্ত বলা হয়েছে। সংবিধানের ৬৬(২)(ঙ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তারা নির্বাচনের অযোগ্য।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কার্যক্রম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ করে। রিটে সেই প্রজ্ঞাপনের প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়েছে।
শাহরিয়ার কবির বলেন, ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন মানে সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন মানে ১৪ দল এবং ভ্রাতৃপ্রতিম মানে জাতীয় পার্টি। ভ্রাতৃপ্রতিম জাতীয় পার্টি সব সময় আওয়ামী লীগের নীতি–আদর্শকে সমর্থন দিয়েছে। সে কারণে এই দলের প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশন কীভাবে বৈধতা দেয়, সেটিই প্রশ্ন।