শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১০ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

নরসিংদী কারাগারের লুট অস্ত্র-গুলি ভোটে শঙ্কা

নরসিংদী প্রতিনিধি : ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নরসিংদী জেলা কারাগার থেকে লুট হওয়া পাঁচ হাজারের বেশি গুলি এবং ২৭টি অস্ত্র দেড় বছরেও উদ্ধার হয়নি। এদিকে জেলাজুড়ে খুনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, লুট হওয়া অস্ত্রসহ অবৈধ সব অস্ত্র নির্বাচনের আগে উদ্ধার না হলে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজন ব্যাহত হতে পারে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. কলিমুল্লাহ জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগেই এসব অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

গত এক বছরে নরসিংদীতে শতাধিক খুনের ঘটনা ঘটেছে, যার বেশিরভাগই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সম্প্রতি নরসিংদীতে গিয়ে চরাঞ্চলে ‘কম্বিং অপারেশন’ চালানোর ঘোষণা দিলেও এখনও পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। জেলা পুলিশ দাবি করছে, যৌথবাহিনীর মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র ও কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। তখনকার ৮২৬ কয়েদি পালিয়ে যান। এ সময় লুট হয় ৮৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও আট হাজারের বেশি গুলি। পরে প্রায় ৭০০ কয়েদি ফেরানো গেলেও পাঁচ হাজারের বেশি কার্তুজ এবং ২৭টি অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চায়না ও বিডি রাইফেল এবং বোর শটগান।

এদিকে নির্বাচনী সহিংসতায় ইতোমধ্যেই প্রাণহানি ঘটেছে। ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন এবং পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগে ৫ নভেম্বর চট্টগ্রামে জনসংযোগকালে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হন, যেখানে আরও দুজন আহত হয়ে একজন মারা যান। এসব ঘটনায় প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ নিরাপত্তার কারণে ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন, যদিও পরে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফিরেছেন। গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী এস এম জিলানী প্রকাশ্যে বুলেটপ্রুফ ভেস্ট পরে নিজের নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

নরসিংদীর স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে চরাঞ্চল অশান্ত হয়ে ওঠে এবং অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ে। এবারও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় কলেজ শিক্ষক নাজমুল আলম সোহাগ বলেন, “চরাঞ্চলে এখন আর শুধু টেঁটা নয়, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে। কারাগারের লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।”

জেলা জজ আদালতের আইনজীবী জহিরুল হক জুয়েল বলেন, “বিগত নির্বাচনের সংঘাতের অস্ত্রের সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্র। এগুলো উদ্ধার না হলে নাশকতার আশঙ্কা থেকেই যাবে।”

জেলা বিএনপির সহসভাপতি হারুন অর রশিদ হারুন বলেন, “অবৈধ অস্ত্রের আতঙ্ক জনমনে রয়েছেই। নতুন করে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হলে জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।”

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কলিমুল্লাহ জানিয়েছেন, লুট হওয়া অস্ত্রের বেশিরভাগ উদ্ধার হয়েছে, কিছু গোলাবারুদও উদ্ধার হয়েছে। বাকি ২৭টি অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নির্দেশে যৌথবাহিনীর অভিযানও চলছে।