শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১০ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

সাগরপাড়ে ফুল উৎসবে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : কুয়াশা প্রকৃতির বুকে সাদা চাদরের মতো বিছিয়ে আছে। ঘাসের ডগায় ঝিলমিল করছে শিশিরের বিন্দু। জোড়া দীঘির জলে হাঁসের দল ভেসে বেড়াচ্ছে। সারি সারি খেজুরগাছে ঝুলছে মাটির কলস, বাঁশের নল বেয়ে ঝরে পড়ছে মিষ্টি রস। মৌমাছির গুঞ্জন আর চারদিক থেকে ভেসে আসা ফুলের সুবাসে যেন প্রকৃতি নিজেই উৎসব করছে। মনোমুগ্ধকর এই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাটের ডিসি পার্কে আয়োজিত ফুল উৎসবে।

গত শুক্রবার সাগরপাড়ের কেওড়া বনের পাশে মাসব্যাপী চট্টগ্রাম ফুল উৎসব শুরু হয়। দেশি-বিদেশি ১৪০টিরও বেশি প্রজাতির লাখো ফুলের সমাহারে উৎসবের উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এহছানুল হক। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২০১৩ সালে মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত ফৌজদারহাটের ১৯৪ একর সরকারি খাস জমি উদ্ধার করে সেখানে ডিসি পার্ক গড়ে তোলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। সেই ধারাবাহিকতায় টানা চতুর্থবারের মতো এ পার্কে আয়োজন করা হয়েছে ফুল উৎসব।

সরেজমিনে দেখা যায়, মেলার শুরু থেকেই পার্কের দুই প্রবেশপথে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। ৫০ টাকা মূল্যের টিকিট কেটে মানুষ প্রবেশ করছেন। ভেতরে ঢুকতেই জোড়া দীঘির উত্তরে ছনের ছাউনিতে সাজানো দোকানে পিঠাপুলি ও দেশীয় খাবারে গ্রামীণ মেলার আবহ। রয়েছে শিশুদের রাইড, দক্ষিণ পাড়ে কিডস জোন, নান্দনিক রেস্তোরাঁ, বাঁশের তৈরি ভাসমান সেতু এবং পশ্চিম পাড়জুড়ে সুশৃঙ্খল ফুলের বাগান। সেখানে জায়ান্ট ফ্লাওয়ার, ট্রি হাউস, ট্রিপল হার্ট শেলফ, ট্রেন, বক ও ময়ূরের আদলে নান্দনিক স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে।

লিলিয়াম, ম্যাগনোলিয়া, ক্যামেলিয়া, গাঁদা, জবা, কৃষ্ণচূড়া ও চন্দ্রমল্লিকা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে। দীঘির ওপর জিপ লাইনিং, কায়াকিং ও প্যাডেল নৌকায় তরুণরা ভ্রমণে মেতে উঠছেন। রঙিন টায়ার ও রংধনুর সাজে পার্কের সৌন্দর্য বেড়েছে। প্রতিদিন আঞ্চলিক গানের আয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থান কর্নার ও আসন্ন গণভোটের প্রচার স্টলও রয়েছে।

সুলাইমান মেহেদী বলেন, নতুন প্রজন্ম দেশীয় ফুলের পাশাপাশি বিদেশি ফুলের সঙ্গেও পরিচিত হতে পারছে। জিপ লাইনিং উপভোগ করতে পেরেছি, যা অন্য কোথাও সহজে পাওয়া যায় না। শিশু সাহেদ আলম আবিদ বলেন, এখানে এসে আমি সব ধরনের রাইড উপভোগ করেছি। এর আগে এত রাইড একসঙ্গে পাইনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, ১৫টি দেশ থেকে সাংস্কৃতিক কর্মীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রতিদিন ৪০-৫০ হাজার দর্শনার্থীর উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে এবং পুরো মাসে প্রায় ২০ লাখ মানুষ পার্ক ভ্রমণ করবেন। তিনি আরও জানান, মেলা চলাকালীন কয়েকটি বুথে গণভোটের প্রচার চালানো হবে। পার্কে আগতরা আনন্দ করার পাশাপাশি জাতীয় ইস্যুতে সচেতন হয়ে উঠবেন।