চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, অতীতে প্রধানমন্ত্রীর পা ধরে সালাম করাই ছিল রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা। এ ধরনের রাষ্ট্রপতি আর দেখতে না চাইলে আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ দিতে হবে। গণভোটেরও প্রতীক রয়েছে— সেটি হলো টিক চিহ্ন মার্কা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর জেলা স্টেডিয়ামে বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন আয়োজিত ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনার জন্য যে দলিল তৈরি করা হয়েছে, তা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নয় মাস ধরে প্রকাশ্যে আলাপ-আলোচনা করে গৃহীত হয়েছে। এই জুলাই সনদ কোনো কালো কালির অক্ষর নয়, বরং প্রতিটি অক্ষর এ দেশের ছাত্র-জনতা ও দিনমজুরের রক্তের ফোঁটায় লেখা। এটি ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, গণভোটে চারটি বিষয়ে একটি প্রশ্ন করা হয়েছে। নির্বাচনে আমরা কোনো দল বা ব্যক্তিকে ভোট দিলেও গণভোটে কোনো ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া হয় না। ভবিষ্যতের দেশ যেই দলিলের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে, সেটিতে সম্মতি দিলে আগামীতে যারাই নির্বাচিত হবেন তারা তা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছরে এক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা পুঞ্জিভূত ছিল। তিনি ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করেছেন এবং নিজের কাজকে সংবিধানের বৈধতা দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন। রাষ্ট্রপতির হাতে দণ্ডিত ব্যক্তিকে ক্ষমা করার বিধান থাকলেও বাংলাদেশে সেটির অপব্যবহার হয়েছে। ভুক্তভোগীর মতামত ছাড়াই রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করেছেন, কিন্তু নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানে লেখা আছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন নিয়োগ করবেন, কিন্তু কাকে নিয়োগ করবেন তা বলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এতে নিরপেক্ষতা থাকে না। একইভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যত বিরোধী দল দমন কমিশনে পরিণত হয়েছে। সরকারি দলের নেতারা বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করলেও তারা নিশ্চুপ থেকেছে। এগুলো পরিবর্তন করতে চাইলে গণভোটে হ্যাঁ দিতে হবে।
জুলাই সনদে বলা হয়েছে, সরকারের ব্যয়ের হিসাব জনগণ চাইতে পারবে। সংসদের তিনটি কমিটিতে বিরোধী দলের সভাপতিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। দিনের বেলায় নিজের ভোট নিজে দিতে চাইলে হ্যাঁ বলতে হবে। যারা ২-৬ শতাংশ ভোট পান কিন্তু আসন জয় করতে পারেন না, তাদের কণ্ঠস্বর সংসদে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগকে স্বাধীন করতে হবে। ইনসাফ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত রাষ্ট্র চাইলে পরিবর্তনে হ্যাঁ দিতে হবে। সংবিধানে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় উচ্চকক্ষের বিধান রাখা হয়েছে। একজন ব্যক্তির হাতে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা থাকা উচিত নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া দেশে কোনো নিরপেক্ষ ভোট হয়নি, এজন্য এ বিধান রাখা হয়েছে।
গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে অপপ্রচার হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করছে, কেউ না বুঝে করছে। কেউ বলছে সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকবে না, মুক্তিযুদ্ধ থাকবে না— এগুলো ভুল। সবই থাকবে সংবিধানে। তাই সবাইকে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (সিনিয়র সচিব) মনির হায়দার, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন।