চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের আলোচিত অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হক আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। এদিন চিন্ময় দাসসহ কারাগারে থাকা আসামিদের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়।
চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, গত ১৪ জানুয়ারি মামলার প্রথম ধার্য তারিখে নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়। এরপর সব আসামির উপস্থিতিতে ১৯ জানুয়ারি চার্জগঠনের তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত। নির্ধারিত তারিখে শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর হলে তিনি দীর্ঘ সময় আদালতে অবস্থান করেন। পরে অনুসারীদের দ্বারা বেষ্টিত অবস্থায় আদালত ভবনের সামনে থাকা প্রিজন ভ্যানে প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান করেন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তার অনুসারী ও সমর্থকদের প্রতিশোধমূলক সহিংসতায় উসকানি দেওয়া হয়। এর ফলে আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
একই অপরাধী উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরবর্তীতে আদালতের প্রবেশপথে আইনজীবী আলিফের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। ধারালো অস্ত্র, লাঠি, রড ও পাথর দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্মমভাবে আঘাত করা হয়। ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের দুটি গভীর কোপসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে মোট ২৬টি আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তদন্তকালে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি, জব্দকৃত আলামত, সুরতহাল প্রতিবেদন, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিসহ একাধিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। এ ঘটনায় মোট ৩৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ জন গ্রেপ্তার এবং ১৬ জন পলাতক রয়েছেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর রাতে কোতোয়ালি থানায় ভুক্তভোগী আইনজীবী সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে এজাহারে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। ২০২৫ সালের ১ জুন তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন কোতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এতে এজাহারনামীয় গগন দাশ, বিশাল দাস ও রাজকাপুর মেথরের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে নতুন করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আরও ১০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে আসামির সংখ্যা বাড়ানো হয়। পরে গত বছরের ২৫ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালত চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি শেষে মোট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন।