লাইফস্টাইল ডেস্ক : সামনেই বসন্ত। আর আপনি? ৪০টি বসন্ত পার করে এসেছেন। এখন আপনার মধ্যে তরুণীসুলভ আবেগ নেই, দারুণ কিছুতেও খুব নিয়ন্ত্রিত প্রতিক্রিয়া দেখান। স্বাধীন, আত্মবিশ্বাসী ও জীবনকে নিয়ন্ত্রণে রাখার দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম। লোকের কথা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই বয়সে দিব্যি বাঁচা যায়, তা তো আপনাকে দেখলেই বোঝা যায়। ৪০তম বসন্তে কোনো রেজল্যুশন ঠিক করেননি? আজই করে ফেলুন।
শান্ত, তবে অটল
৪০ বছরের অভিজ্ঞতায় ব্যক্তিত্বের ওজন বেড়েছে, সঙ্গে বেড়েছে দায়িত্বও। এই বয়স নির্ভার, তবে দায়িত্বশীল। যেকোনো পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে এগোনোই শ্রেয়। আর যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তা যেন থাকে অটুট।
পরিকল্পনা করুন
চল্লিশেও যারা বিয়ের কথা ভাবছেন, নিজের বিয়ের পরিকল্পনা নিজেই করুন। আর যারা একা রয়েছেন, তারা এ বছর কোথায় ভ্রমণে যাবেন, তার তালিকা তৈরি করুন। পোশাকের ধরন ও কাটিং নিয়ে ফ্যাশন ডিজাইনারের পরামর্শ নিন। হেয়ার ড্রেসারের কাছ থেকে জেনে নিন কোন হেয়ারকাটে আপনাকে আরও আত্মবিশ্বাসী দেখাবে।
খরচ ও বিনিয়োগ
বিনিয়োগ, সঞ্চয় ও সংসার খরচের পাশাপাশি নিজের শখ পূরণে কিছু অর্থ রাখুন। তা হোক কোনো শো পিস, পেইন্টিং, কিংবা বেকিং শেখা—যা আপনাকে আনন্দ দেয়। দ্বিধা থেকে বেরিয়ে এসে নিজের পছন্দকে অগ্রাধিকার দিন।
অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া বলেন, “৪০তম বসন্তে এসে হারানোর ভয় বা প্রত্যাখ্যানের ভয়ে আচ্ছন্ন না হয়ে ভাবুন, কিছু হারানোই আমাকে আরও শক্তিশালী করে ভবিষ্যৎ মোকাবিলায় প্রস্তুত করবে।”
ভালো বন্ধু দু-একজনই যথেষ্ট
এই বয়সে অনেক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ঝড়ঝাপটার পরেও যারা পাশে রয়েছেন, তারাই আপন। তাঁদের সঙ্গে সময় কাটান, গল্প করুন, ভ্রমণে যান।
নিজের ত্বককে গ্রহণ করুন
এ বয়সে ত্বকের যত্নে মেকআপের চেয়ে প্রাকৃতিক উপকরণে মন দিন। ফাইন লাইনস, ফ্রেকেলস—সবকেই নিজের অংশ হিসেবে গ্রহণ করুন। এতে সৌন্দর্য টিকে থাকবে দীর্ঘদিন।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
খাবারে লবণ ও চিনি কমান, হালকা ব্যায়াম করুন। পারিবারিক ইতিহাসে বড় রোগ থাকলে সতর্ক থাকুন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন, হাঁটুর ব্যথা এড়াতে। বছরে অন্তত একবার পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।
পরিবারকে সময় দিন
চল্লিশে এসে আপনি একদিকে মা-বাবার সন্তান ও অভিভাবক, অন্যদিকে নিজেও মা। তাই পরিবারকে সময় দিন, তাঁদের সঙ্গে মুহূর্তগুলো উপভোগ করুন।
অ্যাডভেঞ্চারে বাধা নেই
বাকেট লিস্টে থাকা স্কাই ডাইভিং বা ট্রেকিং এবার করে ফেলুন। বন্ধুদের সঙ্গে কফিমিট বা গার্লস ট্রিপে যান। ডিপ্রেশন ঝেড়ে নতুন উদ্যমে ফিরুন।
নিজেকে ট্রিট দিন
প্রতি মুহূর্তকে সেলিব্রেট করুন। নিজের প্রচেষ্টার জন্য নিজেকে পুরস্কৃত করুন। তা হতে পারে সলো ট্রাভেল, ডিনার, পারলারের সার্ভিস বা যেকোনো কিছু যা আপনাকে খুশি করে।