মুক্তবাণী ডেস্ক : শীত পড়লেই অনেকের সকালে ঘুম থেকে উঠতে কষ্ট হয়। দিনভর এক ধরনের ক্লান্তি বা ঘুমঘুম ভাবও লেগে থাকে। অন্য ঋতুতে যেখানে ‘ঘুম ঠিকমতো হয়নি’ এই অনুভূতি তেমন প্রবল হয় না, সেখানে ঠান্ডা আবহাওয়ায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ শীত মৌসুমে একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। চিকিৎসাবিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের ঘুমের চাহিদাও বদলে যায়।
মানুষের শরীরে একটি প্রাকৃতিক ‘বডি ক্লক’ বা জৈবঘড়ি রয়েছে, যা সূর্যের আলোকে ভিত্তি করে ঘুম ও জাগরণের সময় নির্ধারণ করে। সূর্যের আলো থাকলে আমরা সক্রিয় থাকি, আর সূর্য ডুবে গেলে শরীরে ক্লান্তি ভর করে। শীতকালে সূর্যের আলো কমে যাওয়ায় শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই হরমোন ঘুমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঠান্ডা পড়লে মেলাটোনিন তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত শুরু হয়, ফলে আগেভাগেই ঘুমঘুম ভাব আসে।
শুধু ঘুমের সময় নয়, ঘুমের মানের ওপরও আলো বড় প্রভাব ফেলে। শীতকালে দীর্ঘ সময় অন্ধকার থাকায় শরীর সারা বছরের ঘুমের ঘাটতি পূরণ করার চেষ্টা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, শীতকালে গভীর ঘুমের সময় প্রায় ৩০ মিনিট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
গভীর ঘুম মানবস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ সময় স্মৃতিশক্তি উন্নত হয়, মনোযোগ বাড়ে, মেজাজ ভালো থাকে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়। এ ছাড়া গভীর ঘুমের সময় মস্তিষ্কের কার্যকলাপ বেড়ে যায় এবং তখনই মানুষ স্বপ্ন দেখে। এসব প্রক্রিয়া শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।
গবেষকরা বলছেন, ফলাফল থেকে স্পষ্ট হয়েছে ঘুমের অভ্যাস ঋতুভেদে বদলানো দরকার। অর্থাৎ শীতকালে তুলনামূলকভাবে একটু আগেই ঘুমাতে যাওয়া শরীরের জন্য উপকারী। যদিও দৈনন্দিন ব্যস্ততার কারণে সারা বছর ঘুমের সময় প্রায় একই থাকে, বাস্তবে শীতকালে মানুষের মস্তিষ্ক কিছুটা ধীর হয়ে যায় এবং শরীর বেশি ঘুমের দাবি জানায়।
শীতকালে বেশি ঘুম পাওয়া অলসতা বা দুর্বলতার লক্ষণ নয়; বরং এটি শরীরের একটি স্বাভাবিক জৈব প্রতিক্রিয়া। তবে দৈনন্দিন জীবনে এই পরিবর্তন অতিরিক্ত মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া শ্রেয়।