মুক্তবাণী ডেস্ক : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টার বক্তব্যের একটি খণ্ডাংশ ব্যবহার করে দৈনিক কালের কণ্ঠ প্রকাশিত সংবাদে বিভ্রান্তিকর শিরোনাম শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট-চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম ‘বাংলাফ্যাক্ট’।
বাংলাফ্যাক্ট জানিয়েছে, উপদেষ্টা বর্তমান সরকারকে সব ক্ষেত্রে নয়, বরং ‘জুলাই অভ্যুত্থান ও আসন্ন গণভোটের প্রেক্ষাপটে’ নিরপেক্ষ নন বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ‘এক অর্থে নিরপেক্ষ নয় বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে’।
কিন্তু কালের কণ্ঠ তাদের প্রতিবেদনের শিরোনামে ‘এক অর্থে’ এবং ‘গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে’—এই গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ দেওয়ায় পাঠকদের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গতকাল এক সভায় গণভোটে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘এক অর্থে এই সরকার পুরোপুরি নিরপেক্ষ না। কী অর্থে নিরপেক্ষ না? এই সরকার আমাদের যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হলো, সেই অভ্যুত্থানের পক্ষে। এই সরকার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে, সেটার পক্ষেই বলবে। সেটাই তার কাজ। সেই অর্থে এটা পক্ষপাতহীন না… সেজন্য আমরা হ্যাঁ বলছি।’
বাংলাফ্যাক্ট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উপদেষ্টা কেবল জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণভোটের প্রশ্নে সরকারকে ‘নিরপেক্ষ নয়’ বলেছেন। কিন্তু প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে বাক্যের অংশবিশেষ শিরোনামে ব্যবহার করায় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
দেশের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, গত বছর থেকে ভারত এবং ভারত থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দেশের কিছু ফেসবুক পেইজ থেকে বাংলাদেশকে নিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকার এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া দল ও সংগঠনগুলোকে লক্ষ্য করে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
‘বাংলাফ্যাক্ট’ পিআইবি’র একটি বিশেষায়িত টিম, যারা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ যাচাই করে নিয়মিত সত্য তুলে ধরে। বাংলাদেশে সঠিক তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং গুজব প্রতিরোধে প্রতিষ্ঠানটি নিরলসভাবে কাজ করছে।