শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১০ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

প্যারোলের ক্ষমতা কার হাতে, জানুন আইনেই

বিশেষ প্রতিনিধি : নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদন নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। বাগেরহাটের বাসিন্দা হলেও তিনি রয়েছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে। স্ত্রী-সন্তানের জানাজায় অংশ নিতে না পারায় তিনি শেষবারের মতো তাদের মুখ দেখতে পারেননি। পরে গতকাল শনিবার (২৪ জানুয়ারি) স্বজনেরা মরদেহ কারাগারে নিয়ে গেলে সেখানে স্ত্রী-সন্তানকে বিদায় জানান জুয়েল।

জুয়েলের পরিবারের দাবি, জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু প্রশাসন সাড়া দেয়নি। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা ভিন্ন। তাদের বক্তব্য, জুয়েলের পরিবারের পক্ষ থেকে যশোর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর কোনো আবেদন জমা পড়েনি।

প্যারোল কী
আইনের পরিভাষায় প্যারোল মানে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি। নির্দিষ্ট শর্তে কোনো বন্দিকে সাময়িকভাবে মুক্ত থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। বাংলাদেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্যারোল–সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করে। কারা অধিদপ্তরও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান। সর্বশেষ নীতিমালা হালনাগাদ করা হয় ২০১৬ সালের ১ জুন, যা এখনো কার্যকর রয়েছে।

অনুমতি দেন কে
নীতিমালা অনুযায়ী, জেলা প্রশাসক তথা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্যারোল মঞ্জুরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ। কোনো বন্দি নিজ জেলার কারাগারে থাকলে জেলার অভ্যন্তরে যে কোনো স্থানে তিনি প্যারোল মঞ্জুর করতে পারেন। অন্য জেলায় বন্দি থাকলে গন্তব্যের দূরত্ব বিবেচনায় নিয়েই প্যারোল অনুমোদন দেওয়া হয়।

কখন মুক্তি পাওয়া যায়
নীতিমালায় বলা হয়েছে, ভিআইপি বা সাধারণ বন্দি—সবার ক্ষেত্রেই কাছের আত্মীয় যেমন মা-বাবা, শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান বা ভাই-বোন মারা গেলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে। এছাড়া আদালতের আদেশ কিংবা সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে বন্দিকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া সম্ভব।

সময়সীমা
নীতিমালা অনুযায়ী, মুক্তির সময়সীমা কোনো অবস্থাতেই ১২ ঘণ্টার বেশি হবে না। নিরাপত্তা ও দূরত্ব বিবেচনায় মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ সময় নির্ধারণ করেন। বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার সময়সীমা কমানো বা বাড়ানোর ক্ষমতা রাখে।

পাহারায় থাকে কে
প্যারোলে মুক্ত বন্দিকে সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারায় রাখতে হয়। কারা ফটক থেকে পুলিশ বন্দিকে গ্রহণ করে এবং নির্ধারিত সময় শেষে আবার কারাগারে ফিরিয়ে দেয়।

কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, শুধু জেলা ম্যাজিস্ট্রেটই প্যারোল আবেদন মঞ্জুর করেন। কারা কর্তৃপক্ষের কোনো ক্ষমতা নেই। বন্দি প্যারোল পেলে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে, আর সময়সীমা শেষে পুলিশ পুনরায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে।