শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১১ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

বিদেশে বন্ধু থাকবে, প্রভু মেনে নিব না: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিদেশে আমাদের বন্ধু থাকবে, কিন্তু প্রভু মেনে নিব না। আমাদের পরিষ্কার কথা। আমরা আল্লাহর গোলামী ছাড়া আর কারো গোলামী মানবো না। কারো চোখ রাঙানোকে ভয় করি না। আমরা ইসলামের জন্য কথা বলি। অনেকের কাছে ভালো লাগে না।

শুক্রবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশবাসী দেখছে আমাদের কলিজার টুকরো ঢাকার রাজপথের সৈনিক ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। দুইদিন আগে আমাদের শেরপুরে রেজাউল করিমকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা করে কারো গতি থামানো যাবেনা।

তিনি বলেন, একটি পক্ষ জুলাইকে স্বীকার করতে চান না। তাদেরকে বাচ্চা কাচ্ছা নাতি পোতা বলেন। আমি বিস্মিত! লজ্জিত।
যাদের কারণে জেল থেকে মুক্তি, দেশে ফিরে আসা, নির্বাচনের কথা বলা- তারা তাদেরকে অস্বীকার করছেন, লজ্জা, এটা মেনে নেওয়া যায় না। যে উপকারের উপকার স্বীকার করে না, যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে ভালো মানুষ হতে পারে না।
দেশবাসী রাজনীতির পুরনো বন্দোবস্ত দেখেছে, ৫৪ বছর দেখেছে। সে বন্দোবস্তে ফ্যাসিবাদ তৈরি হয়েছে। মানুষের অধিকার হরণ করেছে। দুর্নীতির স্বর্গ রাজ্যে পরিণত করেছে। চাঁদাবাজিতে জনগণকে অতিষ্ঠ করেছে। জনগণের কেনা অস্ত্র দিয়ে জনগণের বুকে গুলি ছুঁড়েছে। সে রাজনীতি আমার মা-বোনের ইজ্জত হরণে করেছে। ওই রাজনীতি আবার ফিরে আসুক আমরা চাই না।

তিনি বলেন, ব্যাংক ডাকাতি করে জনগণের টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আপনারা সেই বাংলাদেশ আবার চান? আপনারা পরিবর্তন চান? পরিবর্তন চাইলে গণভোটে হ্যাঁ বলতে হবে। প্রথমে হ্যাঁ ভোটে সীল মারতে হবে। প্রত্যেকটা মানুষকে হ্যাঁ ভোটে সীল মারতে হবে। আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তনের জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।
আমরা কথা দিচ্ছি, জনগণের আস্থা যদি আমাদের ওপর আসে, আমরা আশাবাদী আসবে ইনশাআল্লাহ। আমরা আস্থার প্রতিদান দেবো। জুলাই বিপ্লবের পরে আমরা বলেছিলাম, আমরা কারো উপর প্রতিশোধ নেবো না, আমরা নিই নাই। আমাদের দলের লোকজন চাঁদাবাজ নয়, আমরা চাঁদাবাজি করি না। আমরা দুর্নীতি করি না, দুর্নীতিকে আমরা ঘৃণা করি। দুর্নীতির সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। বলেছিলাম মামলাবাজি করবো না, মামলা বাণিজ্যও করবো না। মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করবো না।

তিনি আরও বলেন, জনগণ যদি তাদের পবিত্র মূল্যবান ভোট দিয়ে এই জোট এই ঐক্যকে নির্বাচিত করে আমরা কথা রাখবো। প্রথমত আমরা জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেবো না। পুরোনা কাসন্দি নিয়ে কামড়া কামড়ি করবো না। আমরা পেছনের দিকে দৌঁড়াবো না। আমরা যুবকদের স্বপ্নের অগ্রগামি বাংলাদেশ দেখতে চাই।
যুবকরা আমরা তোমাদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেবো না। তোমরা বেকার ভাতার জন্য কোন দাবি জানাওনি। বেকার ভাতা দিয়ে তোমাদেরকে অপমানিত করতে চাই না। তোমাদের হাতগুলোকে দক্ষ কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলবো। প্রত্যেকের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেবো। সেদিন প্রতিটি যুবক গর্বের সাথে বলবে যে আমিই বাংলাদেশ। আমায় দেখে বুঝে নাও বাংলাদেশ কি জিনিস। আমরা সেই বাংলাদেশই গড়ে দিতে চাই। আমরা বাংলাদেশের নেতৃত্ব যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। আমাদের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে ৬২ শতাংশ প্রার্থী হচ্ছে যুবক। বার্তা দিচ্ছি আমরা আগামির দেশ হবে যুবকদের বাংলাদেশ।

জামায়াত আমির বলেন, আন্দোলনে যুবকরা যেমন লড়াই করেছে, আমাদের মেয়েরাও লড়াই করেছে। ১৫ জুলাই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের কলিজার টুকরা মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া হয়েছিল, জুলাই সেইদিন শক্তি ফিরে পেয়েছিল। মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া জাতি মেনে নিতে পারেনি। মুগুর বাহিনী, হাতুড়ি বাহিনী, লাঠিয়াল বাহিনী সবকিছুকে যুবক-যুবতিরা ব্যর্থ করে দিয়েছে। এখনো সেই একই প্রবণতা দেখতে পাচ্ছি। একসময় যারা মজলুম ছিলেন, তারা কেন জালিমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন, আমরা বুঝতে পারি না। বিভিন্ন জায়গায় মা-বোনদের ডিস্টার্ব করা হচ্ছে। তারা এ দেশের নাগরিক, তাদের অধিকার আছে ভোট চাওয়ার। তাদের অধিকার আছে তাদের আদর্শ নিয়ে ভোটারদের কাছে যাওয়ার। আপনি আপনার আদর্শ নিয়ে যান, আমরা বাধা দেবো না।
আপনারা একদিকে বলছেন মায়েদের হাতে দেবেন ফ্যামিলি কার্ড। আরেকদিকে সেই মায়ের গায়েই দিচ্ছেন আপনারা হাত। আপনারা মা-দেরকে কিভাবে দেখবেন এখনই বোঝা যাচ্ছে। সকালের সূর্য দেখলেই বুঝা যায় সারাদিন কেমন যাবে। ভোটের আগের আবহ দেখলে বুঝা যায় কেউ নির্বাচিত হলে আগামিটা কেমন হবে। মনে রাখবেন, সেদিন যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া জাতি ক্ষমা করেনি, গর্জে উঠেছিল, ফুঁসে উঠেছিল, আজকেও মেয়েদের গায়ে হাত দিচ্ছেন, নিজেদের কবর রচনা করবেন। মেয়েদের গায়ে হাত দেবেন না, অপমান করবেন না কারণ আপনাদেরও মা-বোন আছে।

আগামী দিনে সরকার গঠন করলে লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নে কাজ করবেন বলেও জানন তিনি।

পরে জামায়াত আমির লক্ষ্মীপুরে চারটি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতিক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন।

সভায় দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি এটিএম মাসুম, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, ঢাকা মহানগর উত্তরে সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, জেলা জামায়াতের আমীর মাস্টার রুহুল আমিন ভূঁইয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।